Skip to main content

Posts

কুঞ্জলতা

|| কুঞ্জলতা || অন্যান্য নাম : কুঞ্জলতা, কামলতা, তারালতা, তরুলতা, গেইট লতা, সূর্যকান্তি, জয়ন্তী ফুল। ইংরেজি নাম : Cypress Vine, Cypressvine Morning Glory, Cardinal Creeper, Cardinal Climber, Cardinal Vine, Star Glory, Hummingbird Vine, Cupid's flower বৈজ্ঞানিক নাম : Ipomoea quamoclit কুঞ্জলতা একপ্রকার বর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা হলেও এটি দুনিয়ার প্রায় সকল ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আমাদের দেশেও ব্যাপক ভাবে এর দেখা মেলে। কুঞ্জলতা সাধারণত ১-৩ মিটার লম্বা হয়। কান্ড নরম সবুজ, সহজেই ভেঙে যায় তবে পরিনত হলে বাদামি রঙের ও তুলনায় পোক্ত হয়ে থাকে। এর কান্ড বল্লী ধরনের অর্থাৎ এদের কোন আকর্ষ থাকে না তাই কান্ডের সাহায্যে কোন অবলম্বন কে জড়িয়ে ওপরে ওঠে। কুঞ্জলতার পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। পাতা সরল, একান্তর ভাবে সজ্জিত। পাতাগুলি ৫ – ৭.৫ সেমি লম্বা। পত্রকিনারা পালকের মতো গভীরভাবে খন্ডিত, পাতার প্রত্যেক পাশে ৯-১৯টি করে খন্ড থাকে। এরূপ খন্ডনের কারনে পাতাগুলিকে দেখতে লাগে অনেকটা ফার্ণের মত। ঘনভাবে লতানো কুঞ্জলতার পাতাও ...

ছিম ফুল / sweet pea

ছিম ফুল

শ্বেত শিমুল

অথ শ্বেত শিমুল কথা। আমাদের বাড়িতে আগে খুব ঘটা করে গোটাসেদ্ধ হতো। তার জন্য বড় বড় সব বাসন ছিল। কোনো কোনো বার রান্না শেষ হতে রাত দুটোও বেজে যেত। পরেরদিন সক্কাল থেকে সেই ঠান্ডা খাবার বিতরণের পালা শুরু হয়ে যেত। কি তৃপ্তি করে খেত সবাই। দ্বিতীয়বারও চেয়ে নিয়ে যেত কেউ কেউ। একবার হলো কি, রান্না বসানোর আগে বেগুনগুলি ফালি করতে গিয়ে দেখা গেল, অন্য আনাজের তুলনায় বেগুন কম। আরও ক'টি বেগুন হলে নাকি ভালো হতো। সকালে রাশি রাশি বাজার করেছি। তুলতুলে নরম, লম্বা লম্বা, বেগুনি রঙের ঝকঝকে বেগুন এনেছি এত্তো। তবু কম পড়লো! তখন সরস্বতী পূজার ধকল সামলে সবে একটু বসেছি, হুকুম হলো, ক'টা বেগুন নিয়ে এসো। পাড়ার লোকে তাঁর রান্না খেয়ে প্রশংসা করবে সেই উত্তেজনা তখন তাঁর গলায়। কাজেই, পারবো না বলার সাধ্য নেই। ব্যাগ নিয়ে, বাইক নিয়ে বেরুলাম। কিন্তু তখন অতো রাতে কি আর বেগুন পাওয়া যায়! গোটার বাজার আগের দিনই বা বড়জোর সেদিন সকালেই শেষ হয়ে গেছে। কাজেই বাজার তখন ফাঁকা। শেষে দূরের বড় বাজারে গিয়ে পাওয়া গেলো বেগুন। কিন্তু সে বেগুন বেগুনী নয়, সবুজ বেগুন। নিরুপায় হয়ে এবং সাত পাঁচ ভেবে তাইই নিয়ে নিলাম চাড্ডি। কিন্...

কালঞ্চ

কালঞ্চ

বেগোনিয়া

আজকে সকালে আমার বাগানের এক টব বেগোনিয়া ফুল

বাসক

বাসক গাছের পাতা ভেষজ গুণসম্পন্ন।গ্রাম বাংলার আনাচেকানাচে প্রয়াস দেখতে পাওয়া যায় । প্রধানত বর্ষা কালে ডাল কেটে পুঁতে দিলে পুনরায় নতুন গাছ হয়। তবে বসন্তের আগমনের সাথে সাথে মধু মাসের মধুরতা নিয়ে শ্বেতশুভ্র পুস্প নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে ।

Flaming glowrybower / bleeding heart vine

Flaming glowrybower / bleeding heart vine

মোরগঝুটি ফুল

মোরগঝুটি ফুল ...৬ ইঞ্চি টবে ...কলকাতা ।

নাগেশ্বর

অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে। নির্মল করো উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে। জাগ্রত করো উদ্যত করো নির্ভয় করো হে। নাগেশ্বর lndian rose chestnut , Mesua ferrea নাগেশ্বর অন্যান্য নাম : নাগেশ্বর, নাগচম্পা ইংরেজি নাম : Ceylon ironwood, Indian rose chestnut, Cobra's saffron বৈজ্ঞানিক নাম : Mesua ferrea “চাইর কোনা পুষ্কুনির পারে চাম্পা নাগেশ্বর ডাল ভাঙ্গ পুষ্প তুল কে তুমি নাগর।” দৃঢ়তা, গঠনসৌষ্ঠব, দীর্ঘ জীবন, ফুল ও পাতার সৌন্দর্য এই গাছের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর আদি নিবাস শ্রীলঙ্কা। সমগ্র দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় এটি প্রচুর দেখা যায়। সাগর সমতলের ১০০০ থেকে ১৫০০ মিটার উঁচুতেও এটি জন্মাতে পারে। হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বাংলাদেশ-ভারতের অনেক স্থানেই নাগেশ্বর সহজলভ্য। হলো শ্রীলঙ্কার জাতীয় ফুল। ১৯৮৬ সালে এটিকে জাতীয় ফুল বলে ঘোষণা করা হয়। নাগেশ্বর এক প্রকার শোভাবর্ধক, চিরসবুজ গাছ। পুরো গাছটা পিরামিডের মতো গড়ন, কালচে সবুজ পাতার ঝোপের ভেতর মায়া আর ছায়া দুটোই লুকিয়ে আছে। এই গাছ প্রায় ১০০ ফুট লম্বা হয়। কাণ্ড গোলাকৃতি, সরল, বাকল ধূসর। গাছের গুঁ...

গুস্তাভিয়া

এটি কোনো ফুল নয়। এটি গুস্তাভিয়া (Gustavia insignis) গাছের কচি পাতা। গুস্তাভিয়া ফুলকে বলা হয় স্বর্গের পদ্ম। অপূর্ব সুন্দর দেখতে সে ফুল। যত রকমের গুস্তাভিয়া আছে, আমি সবার ছবি পোস্ট করেছি। ক'দিন পরেই এরও ফুল ফুটবে। আবার তখন ছবি দেব। আজ শুধুই পাতা। তবে গুস্তাভিয়ার ফুল কখনই এই অগ্রমুকুলে ফোটে না। সে ফোটে কাণ্ডের গায়ে, অশোক, কামরাঙ্গা ইত্যাদি ফুলের মতো। আলিপুরের হর্টিকালচারের ছবি।

Hoary stock

ইংরেজি নাম: Hoary stock বৈজ্ঞানিক নাম: Matthiola incana।

রুডবেকিয়া

রুডবেকিয়া

খেসারি ফুল

ফাগুনে বৃষ্টিস্নাত খেসারি ফুল।

সিনেরারিয়া ( Cineraria)

সিনেরারিয়া ( Cineraria) এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Pericallis × hybrida নানান রঙের ফুল হয়- বেগুনি, সাদা, নীলচে বেগুনি, বেগুনি আর সাদা, নীলচে বেগুনি আর সাদা। দারুণ দারুণ সব রঙ! সুন্দর ফুল! ফুলের নাম- সিনেরারিয়া বৈজ্ঞানিক নাম- Pericallis × hybrida পরিবার- Asteraceae শীত ও বসন্তের বাগানে অতিথি সিনেরারিয়া। আদি নিবাস ক্যানারি আইল্যান্ড। ১৭৭৭ সালের কথা, ব্রিটিশ রয়েল গার্ডেনে Pericallis cruenta এবং P. lanata প্রজাতি থেকে একটি নতুন হাইব্রিড জাত তৈরি করা হল, যা তখনকার সময়ে Cineraria*hybrida নামে পরিচয় করানো হলো। পরবর্তীতে, উদ্ভিদবিজ্ঞানীরা এই গাছকে Pericallis গণের অন্তর্ভুক্ত করলেন। গাছগুলো ১-৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। লম্বা ডাঁটার মাথায় থোঁকায় থোঁকায় ফুল ফোঁটে। নানান রঙের- বেগুনি, সাদা, নীলচে বেগুনি, বেগুনি আর সাদা, নীলচে বেগুনি আর সাদা দিয়ে সাজানো বাহারী ফুল, দারুন সব রঙ! সুন্দর ফুল! নার্সারী থেকে পছন্দের রঙের ফুল গাছ সংগ্রহ করতে পারেন। ছবি- নেট

ঘাস ফুল রঙ্গিয়া

ঘাস ফুল রঙ্গিয়া। বাসক ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম যেমন জাস্টিসিয়া (Justicia adhatoda), তেমনি প্রায় একইরকম দেখতে ছোট্ট এই ঘাস ফুলটিরও বৈজ্ঞানিক নাম জাস্টিসিয়া (Justicia repens). এর ইংরাজি নাম Creeping Rungia. বাসকের মতো এর ফুলও বৃন্তহীন। গড়ন ও রঙেও এক। ঘাসের মধ্যে ছোট্ট ছোট্ট ফুলগুলি ফুটে থাকে, তার ছোট্ট স্তবকটি হওয়ায় দোলে, ছোট্ট পতঙ্গ ওর বুকে মধু খেতে আসে। এখন এই বসন্তে রঙ্গিয়ার ফুলের সময়। তাই ঘাসের মাঠে হেঁটে বেড়ালে রঙ্গিয়া মাড়িয়েই চলতে হয়।

কার্টেন ক্রিপার

কলকাতায় মেয়ো রোডে Calcutta Judo Club এর টেন্টের গায়ে ঝুলন্ত এই লতাটির নাম কার্টেন ক্রিপার (Curtain creeper). এর বৈজ্ঞানিক নাম Tarlmounia elliptica. আমরা ছোটবেলায় ইডিয়ম (idiom) শিখেছিলাম, To ring down the curtain. অর্থ, যবনিকাপাত করা। সেই থেকে ধারণা হয়েছিল কার্টেন হলো ওপর থেকে ঝুলিয়ে নামানোর জিনিস। পরে Drapes, Shades, Blinds কতকিছুই জেনেছি। কার্টেনের সঙ্গে তাদের প্রভেদ বুঝেছি। প্রকৃত অর্থে কার্টেন কিন্তু আড়াল করার উপাদান নয়। ঈষৎস্বচ্ছ পর্দা যাতে অল্পবিস্তর আলো যাতায়াতের সুবিধা আছে, আভিধানিক অর্থে সেই হলো কার্টেন। বাইরে থেকে দেখলে ঘরে মানুষ আছে কিনা বোঝা যায়, কিন্তু কে আছে চেনা যায় না। সেই হলো কার্টেন। সে যাক। কার্টেন ক্রিপারের কথা বলি। বিদেশি ছবিতে দেখেছি এই লতাকে সত্যিই সবুজ কার্টেনের মতো করে বাড়ির দেওয়ালে, ছাদের আলসেয় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অসাধারণ সুন্দর লাগে। হিন্দিতে এর নামটি মজার : পর্দা ভেল (veil). ওঁরা কোনো চান্স নেননি। পর্দাও আছে, ঈষৎস্বচ্ছ ওড়নাও আছে। যেমন ইচ্ছা নিলেই হলো। কার্টেন ক্রিপারের এখন ফুলের সময়। হালকা পার্পল রঙের থোকা থোকা ফুল ফুটে আছে। ফুলগুলি কয়েকটি ছ...

বাতাবি

বাতাবী লেবু / জাম্বুরা ফুল বসন্তের শুরুতে এই গাছে যখন সাদা সাদা অজস্র ফুল ফোটে তখন অনেক সুন্দর দেখায়. ফুল আর কচি পাতা দুইটাই এক সাথে আসে এই গাছে. মিষ্টি গন্ধে ভরা ৪/৫ পাপড়ি বিশিষ্ট এই ফুল থোকায় থোকায় হয়. ফুলের মতন জাম্বুরা ফলটাও বেশ, যদি সেইটা আবার হয় গরমের সময় দুপুরের রোদ্রে বসে লবন আর কাচা মরিচ দিয়ে ভর্তা করে খাওয়া.

জর্জ বার্নস

আলিপুরের হর্টিকালচারে এই সুন্দরী গোলাপটির নাম জর্জ বার্নস (George Burns). কলকাতায় রোদের তাপ বেড়ে গেছে খুব, তবু কেমন মোলায়েম রং নিয়ে ফুটে আছে সুন্দরী। এই গোলাপটির কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হলো : বছরে কয়েক দফায় ফুল হয় পোকা লাগে না ফুলে লেবু-ফুলের গন্ধ প্রথম অবস্থার লেমন হলুদ রং পর্যায়ক্রমে গাঢ় লাল, পিঙ্ক ও সব শেষে ক্রিম রঙে পরিবর্তিত হয়। পাতা সর্বদা ঝকঝকে।

জ্যাকিউ-মনসিয়া

Jacquemontia শব্দটির বাংলা উচ্চারণ হয় জ্যাকিউ-মনসিয়া বা জ্যাক-মন্টিয়া। এই ফুলটির ইংরাজি নাম জ্যাকিউ-মনসিয়া পেনট্যানথা (Jacquemontia pentantha). মিষ্টি আকাশ-নীল রং এর থোকা থোকা ফুল ফোটে বলে এর ইংরাজি নাম Skyblue Clustervine. মর্নিং গ্লোরী পরিবারের (Convolvulaceae) ফুল, তাই স্বভাবে লতানে। বিষ্ণুক্রান্তা নামে একইরকম একটি ফুল আছে, সেই গাছ লতানে নয়। হাওড়ায় রেল মিউজিয়ামের পিছনে হাওড়ার Divisional Railway Manager (DRM) - এর নতুন বাংলো হয়েছে। তারই পাঁচিলে এক গাছ। ফুলে ফুলে ভরে আছে

Geranium

Geranium

গামার / মধুমতী

গামার (Gamhar) গাছের ফুল। গামারের সংস্কৃত নামটি সুন্দর : মধুমতী। দিলীপ কুমার ও বৈজয়ন্তী মালা বালি অভিনীত একটি হিন্দী ছবির নাম ছিল মধুমতী। সলিল চৌধুরীর সুরে সেই ছবির গানগুলি এখনো কি ভালো লাগে। গামারের বৈজ্ঞানিক নাম Gmelina arborea. কলকাতায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডের পশ্চিম সীমানায় অনেকগুলি গামার গাছ সারি দিয়ে লাগানো হয়েছে। গাছগুলি এখনো বাচ্ছা। এই ফুল সেই সব গাছেরই। গামার পর্ণমোচী বৃক্ষ। এখন তার পাতা ঝরানোর সময়। গাছ তাই এখন প্রায় নিষ্পত্র। গামারের ছাল (bark) দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি ঔষুধগুনে ভরপুর। কত যে রোগের চিকিৎসায় কাজে লাগে তার শেষ নেই। গামারের কাঠ দিয়ে দরজা-জানালা, আসবাব ইত্যাদি তৈরি হয়। গামারের সঙ্গে আমার পরিচয় খুব ছোটবেলায়। যে স্লেটে আমি লিখতে শিখি, তার ফ্রেম ছিল গামার কাঠে তৈরি। প্রায়শঃই সে কাঠ হতো কাঁচা। হাতে ধরে লিখতে লিখতে কচি হাতে হলুদ রং হয়ে যেত। তখনই জ্যাঠামশাইয়ের কাছে গামার নামটি প্রথম শোনা। সেই ফ্রেমের কাঠ ক'দিন পরে একটু শুকিয়ে এলেই কোণগুলি আলগা হয়ে পাথর খুলে যেত। এমনি করে কত পাথরের স্লেট ভেঙে গেছে আমার! ভাঙা স্লেটের টুকরোগুলি ছিল আমার খুব আগ্রহে...