Skip to main content

গোল্ডেন রেড পেন্ডা


 গোল্ডেন রেড পেন্ডা।

এই সুন্দর ফুলটির স্বাভাবিক রং হয় সোনার মতো। তার নাম গোল্ডেন পেন্ডা (Penda).
কিন্তু এই ফুলটি হাইব্রিড, এর রং লাল। তাই সোনার বরণ না হয়েও এর নাম গোল্ডেন রেড পেন্ডা।
আফ্রিকার সোয়াহিলি (Swahili) ভাষায় পেন্ডা শব্দের অর্থ ভালোবাসা (love). অর্থাৎ সোয়াহিলি ভাষায় ফুলের নামের অর্থ সোনার ভালোবাসা।
সাহেবরা এর নাম দিয়েছেন ফার্স্ট লাভ, প্রথম প্রেম।
বৈজ্ঞানিক নাম Xanthostemon chrysanthus.
প্রথম প্রেমের একটি সত্যি গল্প বলি।

আমার সেজ জ্যাঠাইমার ছোট ভাইয়ের নাম ছিল চন্দন রায়চৌধুরী, ডাক নাম ছেল্টু। আমার চেয়ে ক'বছরের বড়, কিন্তু খুব বন্ধু। আমি কখনো বলতাম মামা, কখনো ছেল্টুদা, আবার কখনো শুধুই ছেল্টু।
কি লক্ষ্মী, কি ভালো ছেলে ছিল সে। যে নামেই ডাকি না কেন, ঠিক সাড়া দিতো।

শিবপুর বাজারে বেণী মিত্তির লেনের কাছে তখন উদয় স্টোরস নামে ছোট্ট একটি স্টেশনারী দোকান ছিল। খাতা, পেন্সিল, কালি, কলম, চাম কাগজ সব পাওয়া যেত সেখানে। এবং সবই ছিল সেরা জিনিস। ছেল্টু সেই দোকানের খাতা পেন কিনতো। খাতার মলাটে রবার স্ট্যাম্পে ছাপ দেওয়া থাকতো, উদয় স্টোরস।
ছেল্টুর হাতের লেখা ছিল দেখার মতো। সব খাতায় নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের নাম, স্কুলের নাম, ক্লাস, রোল নম্বর এবং কোন বিষয়ের খাতা তা মুক্তোর মতো অক্ষরে লিখে নিতো। আমি অবাক হয়ে দেখতাম।

সেই ছেল্টুদের বাড়িতে আমরা ছোটরা একবার শিবরাত্রি পূজা করবো ঠিক করলাম। রাত জাগা হবে, ঘরের মধ্যেই প্যান্ডেল বাঁধা হবে, কাগজ কেটে শিকলি তৈরি করবো। নিজেরা লুচি আলুরদম রান্না করবো। ভাবতেই রোমাঞ্চ হতে লাগলো।
শিবরাত্রি পূজায় আরাধ্য হলেন শিব ঠাকুর। কিন্তু পোটোর কাছে সেদিন রাত্রে একটিও শিবের মূর্তি পাওয়া গেল না। নিরুপায় হয়ে একটি শিবদুর্গা মূর্তি কেনা হলো। খুব সুন্দর ছিল সেই যুগল মূর্তি। শিব এবং দুর্গা দুজনেই কি চমৎকার। একদম মানুষের মতো!

মণ্ডপ সাজানো, পূজা, লুচি আলুরদম সব শেষ হতে হতে গভীর রাত হয়ে গেল। আমি আগে কোনোদিন অত রাত অবধি জাগি নি, তবু একটুও ঘুম এলো না। বন্ধুরা একে একে সবাই ঘুমিয়ে পড়লো।
জ্যাঠাইমার ছোট বোনকে আমরা ইলা মাসি বলতাম। তাঁর ছেলের নাম সাহেব। সে দেখতে ছিল সত্যি সাহেবদের মতো। সাহসও ছিল খুব। সেই সাহেবও একসময় ঘুমিয়ে পড়লো। আমি একা জেগে রইলাম। বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়ে শিব-দুর্গার মূর্তির দিকে হাঁ করে চেয়ে বসে রইলাম।
হঠাৎ মনে হলো মা দুর্গার যেন চোখের পাতা পড়লো, যেন ঠোঁটের কোণ দুটি নড়ে উঠলো। আমি আরো কাছে গিয়ে বসলাম। কি সুন্দর চোখ দুটি প্রতিমার।
বুকে কেমন কষ্ট হতে লাগলো। হাত জোড় করে প্রণাম করে মনে মনে বললাম, আমায় পাপ দিও না ঠাকুর!

বড় হয়ে মনে হয়েছিল, সেই-ই ছিল আমার প্রথম প্রেম, ফার্স্ট লাভ।

Comments

Popular posts from this blog

বরুণ ফুল

  বরুণ ফুল 

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)

  রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)