Rudrapalash, রুদ্রপলাশ, Fountain Tree, African tulip tree, Flame-of-the-forest, Nandi Flame (Spathodea campanulata)
Rudrapalash, রুদ্রপলাশ, Fountain Tree, African tulip tree, Flame-of-the-forest, Nandi Flame (Spathodea campanulata)
|| রুদ্রপলাশ ||
অন্যান্য নাম : রুদ্রপলাশ
ইংরেজি নাম : African Tulip, Flame of the Forest, Squirt Tree, Fountain Tree, Nile Flame, Nandi Flame, Uganda Flame, African Tulip Tree
বৈজ্ঞানিক নাম : Spathodea campanulata
ইংরেজি নাম : African Tulip, Flame of the Forest, Squirt Tree, Fountain Tree, Nile Flame, Nandi Flame, Uganda Flame, African Tulip Tree
বৈজ্ঞানিক নাম : Spathodea campanulata
জীবনের পরতে-পরতে ফুল রঙিন করে তোলে আমাদের। যার দিকে তাকালেই স্বর্গীয় আবেশে ভালো হয়ে যায় মন প্রাণ। প্রকৃতিতেও এই ফুল আনে প্রাণের ছোঁয়া। বাগান, আঙিনা আর ছাদ হয়ে উঠে রঙে আর রূপে বর্ণিল। ফুলের নানা রং, বাহার মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ভালো লাগার ছোঁয়া দেয় মনে প্রাণে। তেমনই এক ফুল রুদ্রপলাশ। বসন্তের শুরুতে বৃক্ষচূড়ায় রাশি রাশি রুদ্রপলাশের ফুল দেখে মানুষ অভিভূত হয়ে পড়ে। ফুলের উজ্বলতা আমাদের ফুল না দেখা চোখকে লহমায় আকর্ষণ করে। রুদ্র পলাশের আদি নিবাস আফ্রিকা হলেও ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, পাপুয়া নিউগিনি, কোষ্টারিকা, শ্রীলঙ্কায় এর দেখা মেলে। বাংলার মাটিতে এরা ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। ভারতে এই গাছ প্রথম কবে এসেছে তার তথ্য নেই তবে ধারণা করা হয়, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের মাধ্যমে এদেশে এরা এসেছে।
রুদ্রপলাশ সাধারণত ২৫ থেকে ৮০ ফিট লম্বা হয়ে থাকে। চিরসবুজ বৃক্ষ। গাছের শাখাগুলি মাথার দিকে ঘনভাবে ছড়ানো। কান্ড গোলাকার, হালকা বাদামি মসৃণ বাকল যুক্ত যা বয়স বাড়ার সাথে সাথে কালচে বাদামি অমসৃন বাকলে পরিনত হয়। রুদ্রপলাশ খুব দ্রুত বাড়ে। এর কাঠ খুব নরম তাই অনেক পাখিই এতে সহজে গর্ত করে বাসা বানায়।
রুদ্রপলাশের পাতা সচূড় পক্ষল যৌগিক ধরনের। কচি অবস্থায় পাতার রঙ থাকে বাদামি সবুজ। পরিণত পাতার উপরিতল চকচকে গাঢ় সবুজ ও নিম্নতল হালকা সবুজ রঙের। পাতাগুলি ১২ থেকে ১৮ ইঞ্চি লম্বা। প্রতি পাতায় ৭-১৯ টি বিপরীত ভাবে সাজানো পত্রক থাকে। পত্রকগুলি ডিম্বাকার, সূচালো প্রান্তযুক্ত, কিনারা মসৃন এবং ৭.৫-১১ সেমি লম্বা ও ৩.৫-৭ সেমি চওড়া। পাতার গোড়ায় ফোলা গ্রন্থি থাকে। পত্রবৃন্ত ছোট, ০.৭ সেমি লম্বা।
বসন্তের শুরুতে রুদ্রপলাশে ফুল আসে। গাঢ় সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে রুদ্র পলাশ দেখতে ভারি সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর। এই ফুলের কুঁড়িতে পলাশ এর আদল আছে, রংটাও তার মতো কিন্তু স্বভাবে যেন রুদ্র বা উগ্র তাই হয়তো এর রুদ্রপলাশ নাম। শাখার শীর্ষে গোলাকার মঞ্জরিতে ফুল আসে। ফুলের কুঁড়িগুলি রোমশ, বাদামি সবুজ রঙের, বাঁকানো নখের মত। কুঁড়ির ভেতরে ভরা থাকে জলের মত মধু। কুঁড়ি ধরে সামান্য চাপ দিলেই তীরবেগে বেরিয়ে আসে জল যাকে ছেলেমেয়েরা ব্যবহার খেলনা ‘ওয়াটার-গান” হিসেবে। তাই এর আরেক নাম ‘Squirt Tree’। রুদ্রপলাশের ফুলের রঙ উজ্জ্বল লাল, ভেতরের অংশ লালচে সোনালি। পাপড়ির কিনারা কোঁকড়ানো, চারপাশে থাকে হলুদ রঙের বর্ডার। ফুল প্রায় ১০ সেমি লম্বা ও ৫ সেমি চওড়া। ফুলে ৫ টি পাঁপড়ি থাকে। পাঁপড়ি গুলি প্রায় ১.৫ – ২.৫ সেমি লম্বা। পাঁপড়ি গুলি একসাথে যুক্ত হয়ে ফুলটিকে ফানেলের মত আকৃতি প্রদান করে। এই ফানেল সদৃশ অংশের ভেতর জমা হয় জল যা পাখিরা পান করে। এই কারনে একে ‘Fountain Tree’ বলে। ফুলে পুংকেশর থাকে ৪ টি, পুংদন্ড কমলা রঙের, মাথায় গাঢ় বাদামি রঙের দুটি পরাগধানি। ফুলের মাঝখানে থাকে একটি গর্ভকেশর। বৃতি সবুজ, প্রায় ১ সেমি লম্বা, সামনের দিকে বিভক্ত। মঞ্জরির সমস্ত কুঁড়ি একসাথে ফোটে না, ধাপে ধাপে দীর্ঘ সময় ধরে ফুটতে থাকে। এই গাছের বৈজ্ঞানিক নাম স্প্যাথোডিয়া ক্যাম্পানিউলেটা (Spathodea Campanulata). এর ফুলের বৃতির আকৃতি কিছুটা বাঁকা, স্পেড বা কোদালের মতো বলে জেনাস-এর এই নাম। আর ফুলটি ঘন্টা বা বাটির মতো বলে ক্যাম্পানিউলেটা। এই গণ-এ মাত্র একটি মাত্র উদ্ভিদই নজরে আসে। অস্ট্রেলিয়াতে হলুদ ফুলের একটি আবাদিত গাছ উদ্ভাবিত হয়েছে যাকে Spathodea companulata ‘Aurea’ নাম দেয়া হয়েছে।
ফুল ফোটার পর গাছে লম্বা নলাকার ফল ধরে। একটি ফুলের মঞ্জরি থেকে সাধারনত ২-৪ টি ১২-২৫ সেমি লম্বা ফল ধরে। ফলগুলি খাড়া ভাবে ওপরের দিকে উঠে থাকে ও বাইরের দিকে ছড়ানো থাকে। ফল গুলি কাঁচা অবস্থায় সবুজ বা বাদামী সবুজ রঙের এবং পেকে গেলে কালচে বাদামি বা কালো রঙের হয়। পেকে যাওয়ার পর ফলগুলি লম্বালম্বি ভাবে দুটি নৌকার মত আকারে ফেটে যায়। প্রতি ফলের ভেতর থাকে প্রায় ৫০০ টি স্বচ্ছ ডানা যুক্ত ক্ষুদ্র, ২.৫ সেমি হৃদয় আকৃতির বীজ। হালকা ও ডানা যুক্ত হওয়ার কারনে বীজগুলি সহজেই বহুদুর উড়ে যেতে পারে।
রুদ্রপলাশ তেমন ভেষজ গুনসম্পন্ন না হলেও কিছু ব্যবহার দেখা যায়। এই গাছের পাতা, কান্ড ও বাকল ক্ষত নিরাময়ে, চর্মরোগ, আলসার, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের গোলমাল, আমাশয়, মুত্রনালীর প্রদাহ, ঠান্ডা লাগা, ক্ষুধামান্দ্য, আর্থ্রাইটিস, দাঁতের ব্যাথা, ডায়াবেটিস ও বৃক্কের অসুখে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বীজ অনেক জায়গায় ভোজ্য হিসাবে ব্যবহার হয়। গাছের নরম কাঠ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র ও কাগজ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া ফুলের পাঁপড়ি থেকে প্রাকৃতিক রঙ তৈরি করা হয়ে থাকে।
|| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস ||
Kingdom: Plantae
Subkingdom: Tracheobionta
Superdivision: Spermatophyta
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Subclass: Asteridae
Order: Scrophulariales
Family: Bignoniaceae
Genus: Spathodea
Species: Spathodea campanulata
Subkingdom: Tracheobionta
Superdivision: Spermatophyta
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Subclass: Asteridae
Order: Scrophulariales
Family: Bignoniaceae
Genus: Spathodea
Species: Spathodea campanulata
ফুলের বাংলা নাম- রুদ্রপলাশ
বৈজ্ঞানিক নাম- Spathodea campanulata
পরিবার- Bignoniaceae
অন্যান্য নাম- African tulip tree, Fountaintree,
রুদ্রপলাশ নামটি কবিগুরুর দেওয়া। ১৫ থেকে ২০ মিটার উচ্চতাসম্পন্ন একটি চিরসবুজ গাছ। কোথাও কোথাও এর বেশি উচ্চতার রুদ্রপলাশের দেখা মেলে। বসন্তের শুরুতে উজ্জ্বল সবুজ পাতার রুদ্রপলাশ গাছের ডালে ডালে থোকায় থোকায় লাল রঙের ফুল ফোটে। কোথাও কোথাও হলুদ রঙের রুদ্রপলাশেরও দেখা পাওয়া যায়। এই প্রজাতির রুদ্রপলাশকে বলা হয় Lutea।
আদি নিবাস আফ্রিকা অঞ্চলে, তাই নাম আফ্রিকান টিউলিপ। ফুল যেভাবে মধু সংরক্ষণ করে, ঠিক তেমনি রুদ্রপলাশের কলি পানি ধরে রাখে। এই পানি সুস্বাদু ও মিষ্টি। রুদ্রপলাশ দেখতে হলে যেতে হবে রমনা উদ্যানে, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান বা ধানমন্ডির (৯/এ) ভাষাসৈনিক তোয়াহা সড়কে।
তথ্যসূত্র- নেট
ছবি- নেট
Comments
Post a Comment