Skip to main content

Kolke, কলকে, Mexican oleander, Yellow Oleander, Lucky Nut (Thevetia peruviana)

Image result for yellowOleander

Kolke, কলকে, Mexican oleander, Yellow Oleander, Lucky Nut (Thevetia peruviana)

|| কলকে ফুল ||
অন্যান্য নাম : কলকে, পীত করবীরক, সুগন্ধি কুসুম, কলকি, হলদি কলকি, কড়ি, চায়না করবী
ইংরেজি নাম : Yellow oleander, Mexican oleander, Lucky Nut Tree
বৈজ্ঞানিক নাম : Thevetia peruviana
"ছলকে পড়ে কলকে ফুলের মধু যে আর রয় না
চাঁপার বনে গান ধরেছে ভিনদেশি কোন্ ময়না।"
কলকে আমাদের খুব পরিচিত গাছ। আমাদের অনেকের বাড়ীর আশেপাশেই আছে। পরিত্যক্ত স্থানে, পথপাশে অথবা বাড়ির বাগানে এই ফুল প্রায়ই দেখা যায়। ছোট আকৃতির ঝোপালো ধরনের সুদৃশ্য পাতার সহজলভ্য এই গাছ সযত্ন লালনের প্রত্যাশী নয়। যে কোনো বৈরী পরিস্থিতিতে বেঁচে থাকতে পারে। পাতা ও ফুলের সৌন্দর্যের কারণেই এটি সম্ভবত সবচেয়ে বেশি আদৃত। সারাদেশে এর ব্যাপক ব্যাপ্তি দেখে মনে হতেই পারে গাছটি আমাদের নিজস্ব। হালকা মিষ্টি গন্ধ যুক্ত এই ফুলের আদি বাসস্থান দক্ষিন আমেরিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়ায় এই ফুল অনেক সহজেই মানিয়ে নিয়েছে। ষোল শতকে হিসপানি পাদ্রীগণ গীর্জার আশেপাশে লাগানোর জন্য এই গাছ আমাদের দেশে নিয়ে এসেছিলেন। এখনও প্রাচীন গীর্জার আশেপাশে কলকে গাছ দেখা যায়। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার রেড ইন্ডিয়ান জাতির মধ্যে প্রচলিত আছে, সকালে ঘুম থেকে উঠে কলকের ফুল-ফল দেখা শুভ লক্ষণ।
গাছের আয়তন সীমিত, তাই বয়স্ক ব্যতিরেকে বৃক্ষ গণ্য নয়। কলকে পত্রবহুল, শাখা নমনীয় এবং শীর্ষ ছত্রাকৃতি। সারা বছর সবুজ পাতায় ঢাকা থাকে। কাণ্ড গোল, মসৃণ, হালকা ধুসর, নরম, অগুনতি শাখায় ছড়ানো ছিটানো। কলকে গাছ সাধারণত দশ পনেরো ফুট (৩ থেকে ৫ মিটারের মত) উঁচু হয়। কলকিগোত্রীয় অন্য গাছপালার মতো এদেরও সারাদেহ দুধকষপূর্ণ। পাতা, কান্ড, মূল, ফল, যেখানেই আঁচড় লাগুক, সেখান থেকেই আঠালো কষ বের হয়।
চিরহরিৎ এ গাছ অজস্র দীর্ঘরৈখিক পাতার ঘনবিন্যাসে এলায়িত, ছায়ানিবিড় ও সুশ্রী। কলকের পাতা চিকন ও সরু ছুরির মত শেষ প্রান্ত সুচালো, শাখায় সর্পিলভাবে ঘনবিন্যস্ত। বাংলায় চিরল বলে একটা কথা আছে। এই গাছের পাতাকে চিরল বলাই চলে। পাতা লম্বায় ১০ থেকে ১৫ সে. মি. পর্যন্ত, চওড়ায় ২ সে.মি.পর্যন্ত। রঙ ঘন সবুজ। বোঁটা ছোট।
কলকে ফুল হলুদ, সাদা এবং কমলা- এই তিনটি রঙের হয়ে থাকে। ফুলসংখ্যা সীমিত, পাতার সবুজে প্রস্টম্ফুটনের ঔজ্জ্বল্য প্রচ্ছন্ন থাকে। তবু ঘন-সবুজ পাতার পটভূমিতে হলুদ, সাদা কিংবা রক্তিম ফুলভরা কলকে অবশ্যই নান্দনিক। কলকে নামটি ফুলের কলকের মত আকৃতির জন্যই। কলকে ফুল লম্বায় ১০ সে. মি.। কলকে গাছের শাখার মাথায় ফুল ধরে। বৃতি গুলো একটার সাথে আর একটা লাগানো, সবুজ। লম্বায় ৩ সে.মি.। দল গুলো ৫ সে.মি. লম্বায়। প্রত্যেকটির সাথে প্রত্যেকটি যুক্ত। ফুলের পাপড়ি ৫ টি। পাপড়িগুলো প্যাঁচানো থাকে একটার সাথে একটা, নলাকৃতি, পরাগচক্র দলের গভীরে দৃশ্য। ফুল সুগন্ধি। ফুলের নিচের অংশ সরু, নলাকৃতি, প্রায় সবুজ এবং মৌগ্রন্থিধর। ফুলে প্রচুর মধু থাকে, তাই সারাদিন গাছের আশেপাশে থাকে মৌমাছির আনাগোনা। ফুল ফোটে প্রায় সারা বছর।
কলকে গাছে জোড়ায় জোড়ায় ফল ধরে। ফলের দুই প্রান্ত ঢালু তবে মধ্যখানে ফুলে ওঠা উঁচু থাকে, অর্থাৎ ডিম্বাকার। ফল শাঁসযুক্ত, কাঁচায় সবুজ বা ফ্যাকাসে হলদে, পাকলে ধূসর রঙের হয়ে থাকে। ফলের ভেতর বীজ থাকে। প্রতি ফলে ২ টি বীজ থাকে। বীজ পাকলে ফ্যাকাসে বাদামী হয়। ফল ও বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত। ফল খেলে শীতজনিত ঘর্ম, উন্মত্ততা, প্রলাপ ও অন্যান্য স্নায়ুবিক লক্ষণ প্রকাশ পায়, বমি হয়, নাড়ীর স্পন্দন ধীর হতে হতে দৃষ্টি শক্তি স্থির হয়ে শেষে সংজ্ঞাহীনতা আসে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হয়। বীজ খেলে মস্তিস্কে, পাকযন্ত্রে ও শিরদাঁড়ায় পক্ষাঘাত হয়ে মৃত্যু হয়। বীজের শাঁস-তীব্র বিষাক্ত, অত্যাধিক তিক্ত, চিবুলে জিভে অসাড়তা আসে, জিভ গরম হয়ে যায়। পরিপক্ব ফল ও গাছের শাখা কলম থেকে গাছ হয়। পরিপক্ব ফল মাটিতে রোপণ করলে এক-দুই মাসের মধ্যে চারা গজায়।
কলকে গাছ ভেষজ গুণসম্পন্ন। পাতা, ছাল ও বীজে থাকে কর্ডিয়াক টনিক ও কর্ডিয়াক স্টিমুলেন্ট। গাছের ছাল অরিষ্ট কটু, তিক্ত, বিরেচক এবং বমনকারক। বিভিন্ন প্রকার সবিরাম জ্বরে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া অল্প মাত্রায় ব্যবহার করলে হৃদয়ের শক্তি বৃদ্ধি হয়, অধিক মাত্রায় এটি ঘাতক। গাছের ত্বকের রস কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। গাছের ছাল ও মূলের ছাল প্রায় সমগুন সম্পন্ন। নবজ্বরে ও বিষমজ্বরে হিতকর। মূলের ছাল দিয়ে তৈরী তেল চর্মরোগ নাশক। ছালের মত পাতাও বিরেচক ও বমনকারক। মানুষ ও পশুর ক্ষেত্রে বিষাক্ত। পাতার ক্কাথ দিয়ে তৈরী তেল চুলকানিতে লাগালে উপকার হয়। চারাগাছ তিক্ত, তীক্ষ্ণ, অতিশয় কটু, উষ্ণ, সংকোচক, মুত্রকৃচ্ছ্রতায় উপকারী, চর্মরোগ নিবারক, শ্বেতী, ক্ষত, অর্শ, চক্ষুপীড়া, চুলকানি, জ্বর, ফুসফুসাবরন প্রদাহ এবং বাত-প্রশমক। ফল ও বীজ গর্ভস্রাবকারক, শোথ ও বাত রোগে বিরেচনার্থ ব্যবহার্য। বীজের ক্কাথ বমনকারক, শ্বসন-ক্রিয়া ব্যাহতকারী, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্তদ্ধকারক, অর্শনাশক। বীজের তৈল বমনকারক ও বিরেচক। হৃদয়ের বলকারক। গাছের দুগ্ধ রস বমনকারক, সবিরাম জ্বরনাশক। ক্ষতেও পা ফাটায় ব্যবহার্য। ফুলে হৃদয়ের বলকারক পদার্থ আছে। এর দ্বারা প্রস্তুত তেল চুলকানি নষ্ট করে। ফুলের মধু উপাদেয় খাদ্য।
সতর্কতা: এটির কোন অংশের ব্যবহার আনাড়িভাবে করা উচিত নয়, তা ভয়ঙ্কর বিপদের কারন হতে পারে। এগুলি ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা যাঁদের আছে, তাঁদের পরামর্শ ব্যতিরেকে ব্যবহার করা উচিত নয়।
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
Kingdom Plantae
Subkingdom Viridiplantae
Infrakingdom Streptophyta
Superdivision Embryophyta
Division Tracheophyta
Subdivision Spermatophytina
Class Magnoliopsida
Superorder Asteranae
Order Gentianales
Family Apocynaceae
Genus Thevetia
Species Thevetia peruviana

Comments

Popular posts from this blog

কুঞ্জলতা

|| কুঞ্জলতা || অন্যান্য নাম : কুঞ্জলতা, কামলতা, তারালতা, তরুলতা, গেইট লতা, সূর্যকান্তি, জয়ন্তী ফুল। ইংরেজি নাম : Cypress Vine, Cypressvine Morning Glory, Cardinal Creeper, Cardinal Climber, Cardinal Vine, Star Glory, Hummingbird Vine, Cupid's flower বৈজ্ঞানিক নাম : Ipomoea quamoclit কুঞ্জলতা একপ্রকার বর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা হলেও এটি দুনিয়ার প্রায় সকল ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আমাদের দেশেও ব্যাপক ভাবে এর দেখা মেলে। কুঞ্জলতা সাধারণত ১-৩ মিটার লম্বা হয়। কান্ড নরম সবুজ, সহজেই ভেঙে যায় তবে পরিনত হলে বাদামি রঙের ও তুলনায় পোক্ত হয়ে থাকে। এর কান্ড বল্লী ধরনের অর্থাৎ এদের কোন আকর্ষ থাকে না তাই কান্ডের সাহায্যে কোন অবলম্বন কে জড়িয়ে ওপরে ওঠে। কুঞ্জলতার পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। পাতা সরল, একান্তর ভাবে সজ্জিত। পাতাগুলি ৫ – ৭.৫ সেমি লম্বা। পত্রকিনারা পালকের মতো গভীরভাবে খন্ডিত, পাতার প্রত্যেক পাশে ৯-১৯টি করে খন্ড থাকে। এরূপ খন্ডনের কারনে পাতাগুলিকে দেখতে লাগে অনেকটা ফার্ণের মত। ঘনভাবে লতানো কুঞ্জলতার পাতাও ...

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

অলকানন্দা

অলকানন্দা বৈজ্ঞানিক নাম: Allamanda cathartica পরিচিতি: কান্ড গোল, সরু সরু ডাল, চিরসবুজ, তেমন পত্রঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১*৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। বড় বড় হলুদ রঙের ফুল, গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। অলকানন্দা বাংলা নাম : অলকানন্দা, স্বর্ণঘন্টা, ঘন্টালতা ইংরেজি নাম : Golden Trumpet, Yellow Bell, Common Trumpetvine, Yellow Allamanda বৈজ্ঞানিক নাম : Allamanda cathartica অলকানন্দা (রবি ঠাকুরের দেয়া নাম) একটি গুল্মজাতীয় গাছ। ব্রাজিল ও মধ্য আমেরিকার প্রজাতি। কান্ড গোল, সরু ডাল, চিরসবুজ, পাতা তেমন ঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১.৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ, বিন্যাস আবর্ত। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। ডালের আগায় বড় বড় হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে খুবই সুন্দর, ফুল গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে এটি সবচেয়ে ভালভাবে ফোটে। জল জমে থাকেনা এমন মাটিতে এটি ভাল জন্মে। এটি অনেকটা লতা জাতীয় গাছ, তাই বেড়া বা লাঠিতে ভর দিয়ে এটি বেড...