Skip to main content

Hasnahana, হাস্নুহানা, Night Blooming Jasmine (Cestrum nocturnum)

Image result for Night Blooming Jasmine (Cestrum nocturnum)

Image result for Night Blooming Jasmine (Cestrum nocturnum)

Hasnahana, হাস্নুহানা, Night Blooming Jasmine (Cestrum nocturnum)

হাসনাহেনা
বৈজ্ঞানিক নাম: Cestrum nocturnum
পরিচিতি:
হাসনাহেনা সাদামাটা ফুল, তবে এমনই গন্ধের জোয়ার যেখানেই ফুটুক, জানান সে দেবেই। লতানো ধরণের ঝোপাল গাছ। ডালের গায়ে অজস্র সাদা সাদা তিল থাকে, এদের নাম ল্যান্টিসেল। পাতা লম্বাটে, ১৪.৪*৩-৪ সেমি, মসৃণ। বছরে কয়েকবার ফুল ফোটে, তবে গ্রীষ্ম ও বর্ষায় বেশি ফোটে। পাতার গোড়া বা ডালের আগায় ফুলের ছোট ছোট থোকা সন্ধ্যায় ফোটে এবং সুগন্ধ ছড়ায়। সাদাটে ফুল নলাকার, ২ সেমি লম্বা, ৫টি পাপড়ি। ফল গোল, সাদা। কলমে চাষ।


|| হাস্নুহানা ||
অন্যান্য নাম : হাস্নাহেনা, হাস্নুহানা, রাতের রাণী।
ইংরেজি নাম : Queen of the night, Night blooming Jasmine, Night Blooming Cestrum, Lady of the Night,
বৈজ্ঞানিক নাম : Cestrum nocturnum
আকাশে ঘন কালো মেঘের অপূর্ব ঘনঘটা। বাইরে বৃষ্টির রিমঝিম ছন্দের শব্দ। প্রকৃতির শরীরে সবুজের বর্ণিল সাজ। বাতাস জুড়ে নানান বর্ষা ফুলের গন্ধবাহার। ফুলের মৌ মৌ গন্ধে যেন নেশা ধরে যায় সারা দেহ-মনে। এমন বর্ষার অনন্য প্রকাশ, এই ভালো লাগা, এই আনন্দ আবেগী হৃদয়ে তোলে তোলপাড়। যা শুধু উপলব্ধি করতে হয়। এমন বর্ষার নানান বাহারি ফুলের পাশে হাস্নুহানা হয়ত তেমন রূপবতী নয়। সাদামাটা ফুল, তবু কিছুতেই এড়ানো যাবে না এমনই গন্ধের জোয়ার। যেখানেই ফুটুক, জানান সে দেবেই, এমনই সে গন্ধের তীব্রতা। ফুলের বাহার নয়, সৌরভের মাধুর্যেই হাস্নুহানা আলাদা জায়গা করে নিয়েছে পুষ্পপ্রেমীদের হৃদয়ে। অনেক ফুলের মতই এটিও আমাদের দেশীয় গাছ নয়, অথচ আমাদের দেশের জলহাওয়ায় মানিয়ে নিয়েছে এমন ভাবে যে মনেই হয় না গাছটি আদতে ভিনদেশি। এর আদি নিবাস সুদূর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ক্রান্তীয় আমেরিকা। হাস্নাহেনা চিরহরিৎ, লতানো ধরণের কাষ্ঠল গুল্ম। প্রধান কাণ্ডের গোড়ার চারদিক থেকে কয়েক বছরের মধ্যে অসংখ্য ডালপালা বের হয়ে ঝোপের সৃষ্টি করে। গাছটি ১.৫ – ৪ মি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। কচি শাখা সামান্য রোমশ।
হাস্নুহানা বছরের বেশিরভাগ সময় গাঢ় সবুজ ঘন পাতায় ঢাকা থাকে। পাতা সরল, লম্বাটে, ডিম্বাকার বা বল্লমাকার, মসৃণ ও চকচকে। মসৃণ পত্রকিনারা বিশিষ্ট পাতাগুলি ৬ থেকে ২০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং ২ থেকে ৭ সেন্টিমিটার চওড়া। পাতা ঘষলে কটূ গন্ধ পাওয়া যায়।
সারা বছর ধরে ফুল কমবেশি ফুটলেও হাস্নুহানা ফোটার আসল সময় হল গ্রীষ্ম ও বর্ষা। এ সময় দফায় দফায় বেশ কয়েকবার প্রচুর ফুল ফোটে। ফুল সরু, নলাকার, সরল, মসৃণ এবং একটু লম্বাকৃতির, দলমণ্ডল পাঁচ লোবযুক্ত। পাপড়ি সবুজাভ-সাদা হয় এবং পুষ্পবিন্যাস নিয়ত। ফুল ২-২.৫ সেমি লম্বা এবং ১০-১৩ মিমি ব্যাসযুক্ত। ফুলে থাকে ৫টি পুংকেশর। পাতার গোড়া বা ডালের আগায় থোকায় থোকায় ছোট অসংখ্য ফুল সন্ধ্যায় ফোটে ও সুগন্ধ ছড়ায়। ফুটন্ত ফুল ক্ষণস্থায়ী। রাতের বেলা ফুল থেকে তীব্র, মিষ্টি সুবাস বের হয়ে চারদিক আমোদিত করে তোলে। ফুলের আকৃতি দেখলে মনে হয় না যে এ ফুল এত সুমধুর ঘ্রাণ ছড়াতে পারে। পৃথিবীর অন্যতম তীব্র গন্ধযুক্ত ফুল হিসেবে একে গণ্য করা হয়ে থাকে। এর সুবাস রাত্রে প্রায় ১৬৫ দূর পর্যন্ত ছড়াতে পারে। তবে সুন্দর তীব্র গন্ধের এক ক্ষতিকর দিক ও রয়েছে। সোলানেসী পরিবারের এই উদ্ভিদে সোলানিন নামক একটি এলকালয়েডের উপস্থিতির কারণে এর গন্ধ থেকে কারো কারো শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বা হাঁপানি, গলা ও মাথা ব্যথা, বমি ও জ্বর ভাব হতে পারে। হাস্নুহানার অন্য একটি প্রজাতি হল Cestrum diurnum, এটির দেখাও এ দেশে মেলে। বুনো প্রজাতি, গাছ খাড়া, তেমন ঝোপাল বা লতান নয়। ফুলের গন্ধও কম এবং দিনের বেলা ফোটে।
হাস্নুহানা ফুল থেকে ছোট ছোট চকচকে গোলাকার বেরির মত ফল হয়। ফলগুলি কচি অবস্থায় সবুজ থাকলেও পাকলে সাদা রঙের হয়। ফল ৮-১০ মিমি লম্বা এবং ৪-৫ মিমি ব্যাসযুক্ত। প্রতি ফলে থাকে ১-৩ টি বাদামি রঙের বীজ। বীজগুলি লম্বায় ৩-৫ মিমি এবং চওড়ায় ১.৫-২.৫ মিমি। বীজ ও কলম দুভাবেই এর নতুন চারা তৈরী করা যায়।
হাস্নুহানা ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয় সুগন্ধী তৈরীর জন্য। তবে ভেষজ হিসাবে নানান রোগের চিকিৎসাতেও এর ব্যবহার রয়েছে। এর পাতার রস মৃগীরোগ, স্নায়বিক দুর্বলতা, খিঁচুনী রোগে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া এর গন্ধে মশা বিতাড়ন ক্ষমতা রয়েছে।
|| বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস ||
Kingdom : Plantae
Subkingdom : Viridiplantae
Infrakingdom : Streptophyta
Superdivision : Embryophyta
Division : Tracheophyta
Subdivision : Spermatophytina
Class : Magnoliopsida
Superorder : Asteranae
Order : Solanales
Family : Solanaceae
Genus : Cestrum
Species : Cestrum nocturnum

Comments

Popular posts from this blog

কুঞ্জলতা

|| কুঞ্জলতা || অন্যান্য নাম : কুঞ্জলতা, কামলতা, তারালতা, তরুলতা, গেইট লতা, সূর্যকান্তি, জয়ন্তী ফুল। ইংরেজি নাম : Cypress Vine, Cypressvine Morning Glory, Cardinal Creeper, Cardinal Climber, Cardinal Vine, Star Glory, Hummingbird Vine, Cupid's flower বৈজ্ঞানিক নাম : Ipomoea quamoclit কুঞ্জলতা একপ্রকার বর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা হলেও এটি দুনিয়ার প্রায় সকল ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আমাদের দেশেও ব্যাপক ভাবে এর দেখা মেলে। কুঞ্জলতা সাধারণত ১-৩ মিটার লম্বা হয়। কান্ড নরম সবুজ, সহজেই ভেঙে যায় তবে পরিনত হলে বাদামি রঙের ও তুলনায় পোক্ত হয়ে থাকে। এর কান্ড বল্লী ধরনের অর্থাৎ এদের কোন আকর্ষ থাকে না তাই কান্ডের সাহায্যে কোন অবলম্বন কে জড়িয়ে ওপরে ওঠে। কুঞ্জলতার পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। পাতা সরল, একান্তর ভাবে সজ্জিত। পাতাগুলি ৫ – ৭.৫ সেমি লম্বা। পত্রকিনারা পালকের মতো গভীরভাবে খন্ডিত, পাতার প্রত্যেক পাশে ৯-১৯টি করে খন্ড থাকে। এরূপ খন্ডনের কারনে পাতাগুলিকে দেখতে লাগে অনেকটা ফার্ণের মত। ঘনভাবে লতানো কুঞ্জলতার পাতাও ...

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

অলকানন্দা

অলকানন্দা বৈজ্ঞানিক নাম: Allamanda cathartica পরিচিতি: কান্ড গোল, সরু সরু ডাল, চিরসবুজ, তেমন পত্রঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১*৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। বড় বড় হলুদ রঙের ফুল, গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। অলকানন্দা বাংলা নাম : অলকানন্দা, স্বর্ণঘন্টা, ঘন্টালতা ইংরেজি নাম : Golden Trumpet, Yellow Bell, Common Trumpetvine, Yellow Allamanda বৈজ্ঞানিক নাম : Allamanda cathartica অলকানন্দা (রবি ঠাকুরের দেয়া নাম) একটি গুল্মজাতীয় গাছ। ব্রাজিল ও মধ্য আমেরিকার প্রজাতি। কান্ড গোল, সরু ডাল, চিরসবুজ, পাতা তেমন ঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১.৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ, বিন্যাস আবর্ত। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। ডালের আগায় বড় বড় হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে খুবই সুন্দর, ফুল গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে এটি সবচেয়ে ভালভাবে ফোটে। জল জমে থাকেনা এমন মাটিতে এটি ভাল জন্মে। এটি অনেকটা লতা জাতীয় গাছ, তাই বেড়া বা লাঠিতে ভর দিয়ে এটি বেড...