

Gñetu, ঘেঁটু, Hill Glory Bower (Clerodendrum infortunatum)
ঘেঁটু ফুল
অন্যান্য নাম : ঘেঁটু ফুল, বনজুঁই, ভাঁট, ভাইটা ফুল, ঘণ্টাকর্ণ, রাজবেলি, ভান্ডিরা
ইংরেজি নাম : Hill Glory Bower, Sticky Glory Bower, Wild jasmine
বৈজ্ঞানিক নাম : Clerodendrum viscosum
ইংরেজি নাম : Hill Glory Bower, Sticky Glory Bower, Wild jasmine
বৈজ্ঞানিক নাম : Clerodendrum viscosum
"একদিন আমি যাব দু-প্রহরে সেই দূর প্রান্তরের কাছে,
সেখানে মানুষ কেউ যায় নাকে — দেখা যায় বাঘিনীর ডোরা
বেতের বনের ফাঁকে — জারুল গাছের তলে রৌদ্র পোহায়
রূপসী মৃগীর মুখ দেখা যায়, — শাদা ভাঁট পুষ্পের তোড়া
আলোকতার পাশে গন্ধ ঢালে দ্রোণফু বাসকের গায়;
তবুও সেখানে আমি নিয়ে যাবো একদিন পাটকিলে ঘোড়া
যার রূপ জন্মে — জন্মে কাঁদায়েছে আমি তারে খুঁজিব সেথায়।"
সেখানে মানুষ কেউ যায় নাকে — দেখা যায় বাঘিনীর ডোরা
বেতের বনের ফাঁকে — জারুল গাছের তলে রৌদ্র পোহায়
রূপসী মৃগীর মুখ দেখা যায়, — শাদা ভাঁট পুষ্পের তোড়া
আলোকতার পাশে গন্ধ ঢালে দ্রোণফু বাসকের গায়;
তবুও সেখানে আমি নিয়ে যাবো একদিন পাটকিলে ঘোড়া
যার রূপ জন্মে — জন্মে কাঁদায়েছে আমি তারে খুঁজিব সেথায়।"
গ্রামের পথের ধারে প্রকৃতির নিয়মে সবার অগোচরে পরিচর্যা ছাড়া অবহেলা ভরে কত ফুল ফোটে; এক সময় ঝরেও যায়। কেউ দেখে না, মনেও রাখে না। এসব বনফুল বেশির ভাগ সময় প্রকৃতিপ্রেমী ও ফুলপ্রেমীদের চোখেও সহসা ধরা দেয় না। কখন গ্রামের কোন শিশু কিশোর খেলাচ্ছলে এসব অচেনা অজানা বনফুল কুড়িয়ে এনে সাজায় আপন খেলাঘর অথবা কোন প্রেমিক ভালবাসার অর্ঘ্য হিসেবে প্রেমিকার খোঁপায় পরিয়ে দেয় এ ফুল। এতেই হয়তো কোন বনফুল সার্থকতা খুঁজে পায় প্রকৃতির কাছে। ঘেঁটু ফুল তেমনই এক বনফুল। অথচ সাহিত্য থেকে শুরু করে পৌরাণিক কাহিনী সবখানেই ঘেঁটু ফুল এসেছে বারবার। বেহুলা লখিন্দরের পৌরণিক অমর প্রেমের কাহিনীতে ঘেঁটু ফুল এসেছে নানাভাবে। লখিন্দরের সওদাগরী নৌকা বেহুলার বিনসারা গ্রামের ঘাটে পৌঁছলে ওদের প্রথম চোখাচোখি হওয়ার প্রণয়ের সাক্ষী হয়ে থাকে ঘেঁটু ফুল। প্রণয় পর্বে বেহুলা ভাঁট ফুলেরই মালা গেঁথে পরিয়ে দেয় লখিন্দরের গলায়। স্বামীকে ফিরে পেতে লখিন্দরের দেহ ভেলায় তুলে চারিধার ভাঁট ফুল দিয়ে সাজিয়ে বেহুলা রওনা হয় মনসা দেবীর উদ্দেশে। কবি লিখেছেন -
‘বাংলার নদী মাঠ ভাঁট ফুল ঘুঙুরের মতো কেঁদেছিল তার পায়...।’
আবার কোন পৌরণিকের মতে এই ঘেঁটু ফুলই হলো দেবতা। যার নাম ঘণ্টাকর্ন। ফাল্গুন সংক্রান্তিতে পশ্চিমবাংলায় এখনও ঘেঁটু উৎসব হয়। এটি আসলে শিব-পার্বতীর পুজো। ঝুড়ির উপর এক পাশে গোবরের সাহায্যে কড়ি দিয়ে চোখ-মুখ ও দেহের অবয়ব দান করে বিগ্রহ তৈরি করে এই পুজো করা হয়। ঝুড়ির ভেতর ঘেঁটু ফুল সাজিয়ে দেওয়া হয়। এই ঝুড়ি নিয়ে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নানা রকম গান, ছড়া রচনা ক'রে একসাথে গাইতে গাইতে পাড়া পরিক্রমা করে. পাড়ার লোকেরা খুশি হয়ে তাদের চাল,ডাল,আলু, টাকা ইত্যাদি প্রদান করে। তেমনই একটি ছড়া -
"ঘেঁটু যায় ঘেঁটু যায় গৃহস্থের বাড়ি
এক কাঠা চাল দাও কুমড়োর বড়ি
যে দেবে থালা থালা তার হবে কোঠা-বালা
যে দেবে মুঠো মুঠো তার হবে হাত ঠুটো
যে দেবে এক পলা তেল তার হবে সোনার দেল"
এক কাঠা চাল দাও কুমড়োর বড়ি
যে দেবে থালা থালা তার হবে কোঠা-বালা
যে দেবে মুঠো মুঠো তার হবে হাত ঠুটো
যে দেবে এক পলা তেল তার হবে সোনার দেল"
ঘেঁটুফুল ছোট আকৃতির নরম শাখা প্রশাখা বিশিষ্ট গুল্ম জাতীয় গাছ। সাধারণত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার, আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এছাড়া মায়ানমার, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, মালয়েসিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের পতিত জমি, রাস্তার ধারে, জঙ্গলে অযত্ন অবহালেতেই এ ফুলের গাছটি অনায়াসেই জন্মে থাকে। এর কাণ্ড অপেক্ষাকৃত শক্ত ও নমনীয়। সহজে ভাঙ্গে না। লম্বায় ৪ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। কখনো কখনো আরো বেশি উঁচু হতেও দেখা যায়। হলদে বা সাদা রংয়ের রোমে আবৃত। মুল গুচ্ছ তবে শক্ত হয়ে কিছুটা গভীরতায় যায়।উপর দিক থেকে হাত দিয়ে টানলে সহজে উঠে আসে না।
এর পাতা বিপ্রতীপ। লম্বায় ১২ থেকে ১৫ সেমি চ্যপ্টায় ১০ থেকে ১২ সেমি দেখতে চ্যাপ্টা, সবুজ, অমসৃণ এবং চারপাশে খাঁজ কাটা। পাতার নীচের শিরা গুলো স্পষ্ট। নরম লোমশ। পাতার আকার হৃদপিন্ডাকৃতি অথবা ডিম্বাকৃতি, অগ্রভাগ ক্রমশ সরু। পাতার বোঁটা আছে, বোঁটা ১-৪ ইঞ্চি লম্বা। ওপরের পাতা লাল রংয়ের।
মার্চ-এপ্রিল মাসে ছোট ছোট গাছে তোড়ার মত লালচে পুষ্পদন্ডে থোকায় থোকায় অনেক ফুটে থাকতে দেখা যায় ঘেঁটুফুল। পুষ্পদণ্ড ১৮ থেকে ২৫ সে.মি লম্বা ও বহু শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট। ফুলের রং ধবধবে সাদা। প্রতিটি ফুলে ৫টি করে পাপড়ি থাকে। ফুলের বাইরের দিক কর্তিত, ভেতরের দিকের স্তবক কোমল রোমযুক্ত, পাপড়ির গোড়াতে থাকে সামান্য বেগুনী রঙের পোঁছ। ফুলের কেন্দ্র থেকে ৪টি করে ৩ সেন্টিমিটারের মত লম্বা পুংকেশর ফুলের সামনের দিকে বেরিয়ে আসে, সামনের অংশে থাকে কালো দানার মত পরাগধানী। গ্রীস্মে ফল হয়, ফল মটরদানার চেয়ে সামান্য বড়। ফলের মধ্যে থাকে কালো রঙের বীজ। বীজ থেকে চারা হয়। এছাড়াও কন্দ থেকে চারা হয়। ঘেঁটুফুল গন্ধ ছড়ায় রাতে।
সৌন্দর্যকে ছাপিয়ে ঘেঁটু গাছ ও তার ফুলের ভেষজ গুণাগুণ মানব কল্যাণে বড় অবদান রেখেছে বহুকাল ধরে। পাতা ও মূল টিউমার ও কয়েক ধরনের চর্মরোগের বাহ্য প্রয়োগে উপকারী। পাতার রস ধারক, তিক্ত ও বলকারক। পাতা চিরতার পরিবর্তে ব্যবহৃত হয়। পাতার টাটকা রস ক্রিমিনাশক এবং বিশেষভাবে বাচ্চাদের ম্যালেরিয়া রোগে উপকারী। পাতা ও ফুল কাঁকড়া-বিছার কামড়ে উপকারী। খুব ক্ষিদের ভাব থাকলে, এমনকি অনেক খেয়েও পেট ভর্তি হলেও খাওয়ার রুচি কমে না, পেট বড় হয়ে যায়, চোখ কোঠারাগত হলে, শরীর দুর্বল হলে ও স্বভাবিক দৃষ্টি কমে গেলে ঘেঁটুর কচি পাতা ও মুল বেটে সকালে খেলে সুফল পাওয়া যায়।
বাচ্চারা রাতে বিছানায় প্রস্রাব করলে ও দিনে ঘনঘন প্রবল বেগে প্রস্রাব হওয়া থেকে ভালো রাখতে ঘেঁটুর পাতা ও মুলের রস কয়েক দিন ধরে খেলে বেশ উপকার দেয়। পোকামাকড় কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে ঘেঁটুর পাতা বে্টে রস লাগালে অসহ্য যন্ত্রনা কমে। দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে জ্বর লেগেই থাকলে,গেটবাতে ও আমাশয় ও পেট ব্যথায় ঘেঁটুর কচি ডগার রস কয়েকদিন সকলে খেলে ভালো হয়ে যায়। ঘেঁটুর রস তিতা বলে সহজে কেউ খেতে চায় না।
বাচ্চারা রাতে বিছানায় প্রস্রাব করলে ও দিনে ঘনঘন প্রবল বেগে প্রস্রাব হওয়া থেকে ভালো রাখতে ঘেঁটুর পাতা ও মুলের রস কয়েক দিন ধরে খেলে বেশ উপকার দেয়। পোকামাকড় কামড়ালে সঙ্গে সঙ্গে ঘেঁটুর পাতা বে্টে রস লাগালে অসহ্য যন্ত্রনা কমে। দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে জ্বর লেগেই থাকলে,গেটবাতে ও আমাশয় ও পেট ব্যথায় ঘেঁটুর কচি ডগার রস কয়েকদিন সকলে খেলে ভালো হয়ে যায়। ঘেঁটুর রস তিতা বলে সহজে কেউ খেতে চায় না।
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
KINGDOM Plantae
PHYLUM Magnoliophyta
CLASS Magnoliopsida
ORDER Lamiales
FAMILY Lamiaceae
GENUS Clerodendrum
Species Clerodendrum viscosum
PHYLUM Magnoliophyta
CLASS Magnoliopsida
ORDER Lamiales
FAMILY Lamiaceae
GENUS Clerodendrum
Species Clerodendrum viscosum
Comments
Post a Comment