শিমুল
বৈজ্ঞানিক নাম : Bombax ceiba
পরিচিতি:
লম্বায় প্রায় ১৫-২০ মিটার হয়। এর শাখা-প্রশাখা অপেক্ষাকৃত কম। সরল ও বৃত্তাকারভাবে চারদিকে বিস্তৃত। বাকলে কাঁটা থাকে। কাঁটার অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ণ এবং গোড়া বেশ মোটা।
পাতার গঠন অনেকটা বোঁটায় ছড়ানো হাতের পাঞ্জার মতো। এর পাতা ৭-১১ সেন্টিমটার চওড়া হয়। শীতের শেষে এই গাছের পাতা ঝরে যায়। ফাল্গুন মাসে ফুলের কুঁড়ি আসে এবং চৈত্র মাসে বড় এবং উজ্জ্বল রঙের লাল ফুল ফোটে। এরপর গাছের পাতা গজানো শুরু হয়। ফুলের পাপড়ি ১০-১২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এর পুংকেশের অনেক থাকে। এর স্ত্রীকেশর পুংকেশর অপেক্ষা লম্বায় বড় হয়।
এর মোচাকৃতি ফল হয় এবং বৈশাখ মাসে ফল পাকে এবং ফল ফেটে বীজ ও তুলা বের হয়ে আসে। বীজের রঙ কালো। শিমুল তুলা লেপ, তোষক ইত্যাদি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
|| শিমুল ||
অন্যান্য নাম : শিমুল, রক্তশিমুল, লালশিমুল, শাল্মলি, শাল্মল, সূত্রপুষ্প
ইংরেজি নাম : Silk Cotton Tree, kapok tree, Red Silk Cotton Tree, Indian Bombax
বৈজ্ঞানিক নাম : Bombax Ceiba
ইংরেজি নাম : Silk Cotton Tree, kapok tree, Red Silk Cotton Tree, Indian Bombax
বৈজ্ঞানিক নাম : Bombax Ceiba
“রক্ত শিমুল তপ্ত পলাশ দিল ডাক সুনীল ভোরে
শপথের মশাল হাতে
ছুটে চল নতুন প্রাতে
বাজা-রে অগ্নিবীণা প্রাণে প্রাণে প্রান্তরে।।”
শপথের মশাল হাতে
ছুটে চল নতুন প্রাতে
বাজা-রে অগ্নিবীণা প্রাণে প্রাণে প্রান্তরে।।”
শীতের শেষ এবং বসন্তের শুরুতে প্রকৃতিতে যে আবহ বিরাজ করে, তাতে মনটা কেমন যেন একটু উদাসীন হয়ে যায়। আবার শরীরেও আসে একরকম অলসতা। এসময় ফুল, পাখির কিচির মিচির পরিবেশের স্নিগ্ধতায় নিজের অজান্তেই মনটা ভালো হয়ে যায়। শীতকালের শেষের দিকে যখন শিমুল গাছে ফুল ফোটে তখন দূর থেকে চোখ পড়ে গাছটার দিকে। রক্তের মতো লাল শিমুল ফুল। এতে নেই তেমন সৌরভ। তবে লাল টুকটুকে এ ফুলগুলো বিমোহিত করে। টকটকে লাল রঙের শোভা দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়। শিমুল বাঙালির খুব কাছের ফুল। ভালোবাসার ফুল। বিদ্রোহ ও বিরহের প্রতীক। পলাশের আগুনের দহনে কেউ পোড়ে না ঠিকই, কিন্তু জীবনে ছাপ ফেলে দেয়। পলাশের নাম জানে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যেমন যাবে না। বাঙালির শিল্প-সংস্কৃতিতেও পলাশের সমান উপস্থিতি। বাঙালির জীবনাচরণে ও সংস্কৃতিতে শিমুল-পলাশ-কৃষ্ণচূড়ার লাল আভা হৃদয়কে অপরূপা করে তোলে। গ্রামবাংলার পথে প্রান্তরে অসংখ্য শিমুল গাছ সারাবছর মাথা তুলে দাঁড়িয়ে থাকে। দেখে বোঝার উপায় নেই যে, এই গাছই এক সময় আগুন ঝরা রূপে প্রস্ফুটিত হবে।
শিমুল পাতাঝরা, বহুবর্ষজীবি, বৃক্ষ জাতীয় তুলা উৎপাদক উদ্ভিদ। ভারত, বাংলাদেশ, চীন, মালোয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ায়, হংকং এবং তাইওয়ানে এ গাছ প্রচুর জন্মে। চীনের ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজ থেকে জানা যায় যে, ন্যাম ইউয়েতের রাজা চিউ তো খ্রীষ্ট-পূর্ব ২য় শতকে হ্যান শাসন আমলে সম্রাটকে প্রদান করেছিলেন। লম্বায় প্রায় ১৫-২০ মিটার হয়। বাংলার মাঠে-ঘাটে, রাস্তার পাশে অনাদর-অবহেলায় বেড়ে ওঠে শিমুল গাছ। দ্রুত বর্ধনশীল গাছ। মাত্র ৪-৫ বছরের মধ্যে উচ্চতায় আশপাশের আম-কাঁঠাল জাতীয় ২০-২৫ বছরের পূর্ণবয়স্ক বৃক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। বছরে ৬ মাস সবুজ পাতায় সুশোভিত থাকে শিমুলগাছ।
“হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল
এনে দে এনে দে নইলে
বাঁধব না, বাঁধব না চুল...”
এনে দে এনে দে নইলে
বাঁধব না, বাঁধব না চুল...”
শিমুলের কাণ্ডের রং ধূসর। বাকল মোটা, মসৃন ও ধুসুর বর্ণের হয়ে থাকে। কাণ্ড খাদযুক্ত। কাণ্ডের একেবারে গোড়ার দিকে হাঙরের ডানার মতো ৩-৪ টি পায়া বের হয়ে মাটির সাথে মিশে যায়। একারণে বয়স্ক শিমুল গাছের কাণ্ড গোল হয় না। তবে তরুণ গাছের কাণ্ড গোলই হয়। ছোট্টকালে কাণ্ডের গোড়া থেকে ডাল বের হলেও বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেসব নষ্ট হয়ে যায়। তাই শিমুল গাছের কাণ্ডের উচ্চতাও অনেক বেশি। মোটমুটি ২০ ফুটের ওপরে গিয়ে শিমুলের প্রথম ডালটার নাগাল পাওয়া যেতে পারে। কাণ্ডের চারপাশে সুবিন্যস্ত থাকে শাখা-প্রশাখা, সরল ও বৃত্তাকারভাবে চারদিকে বিস্তৃত, তবে সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। শিমুলে কাণ্ড ও শাখা প্রশাখা বেশ নরম। তবে কাণ্ড একেবারে সোজা ও খাড়া হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায়। বৃহদাকার শিমুল গাছে অধিমূল জন্মে। অল্প বয়সী শিমুলগাছে কাণ্ডের গোড়ার দিকে বাকলে মোটা মোটা বেঁটে ফোঁড়ার মতো কাঁটা থাকে। কাণ্ড পেরিয়ে যতই ওপরে ওঠা যায় যায়, ততই কাঁটা কমতে থাকে। কাণ্ডের শেষ পর্যায়ে এবং ডালে মোটেও কাঁটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। গাছের বয়স ১৫-২০ পেরিয়ে গেলে কাঁটা তখন গোড়াতেও থাকে না। কাঁটার অগ্রভাগ সরু ও তীক্ষ্ণ এবং গোড়া বেশ মোটা।
শিমুলের পাতার গঠন অনেকটা হাতের পাঞ্জার মতো। একেকটা বোঁটায় ৫-৮ টা পাতা থাকে। প্রতিটা পাতার যে আলাদা বোঁটা থাকে, সেটা মোটামুটি এক ইঞ্চি লম্বা। পাতা লম্বাটে, অনেকটা বর্শার ফলার মতো। পাতা ৪-৮ ইঞ্চি লম্বা হতে পারে। মাঝ বরাবর পাতার প্রস্থ ২-২.৫ ইঞ্চি। শিমুল পাতার রং সবুজ। বোঁটা লম্বা, বহুপক্ষল। শীতের শেষে এই গাছের পাতা ঝরে যায়। হেমন্তের শুরতেই সবুজ পাতা হলদেটে হয়ে যায়। শীতের শুরুতেই সব পাতা ঝরে গাছ পুরোপুরি ন্যাড়া হয়ে যায়। বসন্ত কালেঅন্যান্য বৃক্ষরা যখন নব পল্লবে সেজে ওঠে তখন শিমুল গাছে শুধু কুঁড়ি বের হয়। সেই বোধহয় ভালো। নইলে শিমুলের পাতার যে বাহার, যে বিপুল তাদের সংখ্যা, হয়তো তার আড়ালে কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে যেত শিমুলের সুন্দরী পষ্পকূল।
“ও শিমুল বন দাও রাঙ্গিয়ে মন
কৃষ্ণচূড়া দোপাটি আর পলাশ দিলো ডাক
মধুর লোভে ভিড় জমালো
মৌ পিয়াসী অলির ঝাঁক।”
কৃষ্ণচূড়া দোপাটি আর পলাশ দিলো ডাক
মধুর লোভে ভিড় জমালো
মৌ পিয়াসী অলির ঝাঁক।”
শীতের কষাঘাতে যখন পাতা ঝরে যায়। তখন রিক্ত পলাশের কোল জুড়ে হেসে ওঠে রক্তিম পলাশ ফুল। দেখা দেয় পলাশের রক্তমিছিল। শীতের একেবারে শেষভাগে এসে ফাল্গুন মাসে ন্যাড়া শিমুল গাছের মঞ্জরিতে কুঁড়ি আসে। এর কুঁড়িগুলো দেখতে ভারি সুন্দর। ঠিক কুঁড়ি নয়, যেন সুস্বাদু ফল! শিমুলের মঞ্জরিও দেখার মতো। ছোটখাট একট ডাল যেন। ডালটার সারা গায়ে সার বেঁধে কুঁড়ি বের হয়। তার মানে মঞ্জরি বহুপুষ্পক। ফুলের কুঁড়ি আস্ত একটা সবুজ আবরণ দিয়ে ঢাকা থাকে। ধীরে ধীর সবুজ আবরণ ফেটে বেরিয়ে আসে আসল ফুল। কিন্তু কুঁড়ির ওই সবুজ আবরণ থেকেই যায়। পরিণত হয় সবুজ পাঁপড়িতে। ফুলের বোঁটার বেড় প্রায় ১ ইঞ্চি। চৈত্র মাসে বড় এবং উজ্জ্বল রঙের লাল ফুল ফোটে। শিমুল ফুলের রং গাঢ় লাল। ফুল গন্ধহীন। কখনো কখনো ফিকে লাল রঙের ফুলও দেখা যায়। শিমুল ফুল ঘন্টাকৃতির। পাঁচটি পাঁপড়ি থাকে। পাঁপড়ি ঘন, সুসজ্জিত। ফুলের ব্যাস ৫-৭ ইঞ্চি হতে পারে। একটা পাঁপড়ি প্রায় ৪ ইঞ্চি লম্বা। পাঁপড়ি বেশ পুরু। অতিরিক্ত পুরুত্বের কারণে শিমুল ফুলের ওজনও অনেক বেশি। একেকটা ফুলের ওজন ৩০-৫০ গ্রাম হবে। এর পুংকেশের অনেক থাকে। এর স্ত্রীকেশর পুংকেশর অপেক্ষা লম্বায় বড় হয়। ফুলে এক ধরনের সুস্বাদু তরল পদার্থ সঞ্চিত থাকে তাই পাখিরা পিপাসা মিটানোর জন্য দলে দলে শিমুল গাছে ভিড় করে এবং পাখিরা কলকাকলিতে চারদিক মুখরিত করে তোলে।
ফুল শেষে গাছে ফল হয়। ফলের আকার মোচাকৃতি, লম্বা, বড় ও গোলাকার। ফল পাকে চৈত্র, বৈশাখ মাসে এবং ফলের ভিতর বীজ ও তুলা থাকে। পরিপক্ক ফল সঠিক সময়ে সংগ্রহ না করলে আপনা আপনি ফেটে বীজ ও তুলা বাতাসের সাহায্যে উড়ে বহুদূর পর্যন্ত চলে যেতে পারে। বীজের রং ধুসর বা কালো হয়ে থাকে।
শিমুলের রূপ একদিকে যেমন মানুষকে বিমোহিত করে, তেমনি অন্যদিকে উপকারও সাধন করে। ভেষজ হিসেবে এবং নানান নৈমিত্তিক প্রয়োজনে শিমুল এর যথেষ্ট কদর রয়েছে। শিমুল কাঠের বহুবিধ ব্যবহার লক্ষ করা যায়। প্যাকিং বাক্স, দিয়াশলাই বক্স/কাঠি, প্লাইউড উৎপাদন, কাগজের মন্ড তৈরিতে, বিল্ডিং তৈরির সেন্টারিং/লিন্টার, ছাদ ঢালাইয়ে ও আরো অন্যান্য নিত্যনৈমিত্তিক কাজে শিমুল কাঠ ব্যবহার হয়। শিমুল গাছে উৎপাদিত তুলা বালিশ, তোষক তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ব্যপক ভাবে এবং শিমুল তুলা গুনগত মানে অতি উত্তম আরাম দায়ক বলে এর চাহিদা ও বাজার দর বেশী। শিমুলের আঠা, শিকড়, বীজ, ছাল, ফুল ও মূল ভেষজ গুন সম্পন্ন। নতুন কচি গাছের মূল শুক্রবর্ধ ও যৌন উত্তেজক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নিবারক ও প্রদরে উপকারি। শিমুলের ফুল পিষে ব্রনের উপর প্রলেপে ব্যাথা কমে, শিমুল আঠা আমাশয়, রক্ত আমাশয়, অনিয়মিত ঋতু প্রভৃতি রোগে উপকারী। শিমুল গাছের ছালও বিষফোঁড়া নিরাময়ে মহৌষধ।
“আমায় গেঁথে দাও না মা'গো
একটা পলাশ ফুলের মালা।।
আমি জনম জনম রাখবো ধরে
ভাই হারানোর জ্বালা।”
একটা পলাশ ফুলের মালা।।
আমি জনম জনম রাখবো ধরে
ভাই হারানোর জ্বালা।”
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
Kingdom Plantae
Subkingdom Viridiplantae
Infrakingdom Streptophyta
Superdivision Embryophyta
Division Tracheophyta
Subdivision Spermatophytina
Class Magnoliopsida
Superorder Rosanae
Order Malvales
Family Malvaceae
Genus Bombax
Species Bombax ceiba
Subkingdom Viridiplantae
Infrakingdom Streptophyta
Superdivision Embryophyta
Division Tracheophyta
Subdivision Spermatophytina
Class Magnoliopsida
Superorder Rosanae
Order Malvales
Family Malvaceae
Genus Bombax
Species Bombax ceiba
ফুলের নাম- শিমুল
বৈজ্ঞানিক নাম- Bombax ceiba
পরিবার- Malvaceae
অন্যান্য নাম- Cotton Tree
এটি পাতাঝড়া বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ। গাছের উচ্চতা ১৫ থেকে ২০ মিটার। কাণ্ডের চারপাশে সুবিন্যস্ত থাকে শাখা-প্রশাখা, তবে সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বৃহদাকার শিমুল গাছে অধিমূল জন্মে। গাছের গায়ে কাঁটা থাকে যার গোড়ার অংশ বেশ পুরু। তবে বয়স্ক গাছে তেমন কাঁটা থাকে না। শীতের শেষে পাতা ঝড়ে যায়, ফাল্গুনে ফুল ফোটে। ফল মোচাকৃতি। চৈত্র বা বৈশাখ মাসে ফল ফেটে শিমুল তুলা বেরিয়ে আসে।
তথ্যসূত্র- উইকিপিডিয়া
ছবি- নেট

Comments
Post a Comment