শিকোরি
স্থানীয় নাম: খাক্রা বা কাউকরা।
ইংরেজি নাম Chinese Waterberry, Snowberry, Common Bushweed ইত্যাদি।
বৈজ্ঞানিক নাম: Flueggea Virosa
পরিচিতি:
কাউকরা গুল্মজাতের পত্রমোচি গাছ। স্ত্রী ও পুরুষ গাছ আলাদা। গুল্ম হলেও কখনো কখনো চার থেকে পাঁচ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। শাখা কোনাকৃতি। তবে নতুন অবস্থায় লালাভ বাদামি, মসৃণ এবং ক্রমশ গাঢ়, বায়ুরন্ধ্রযুক্ত। পত্র সোপপত্রিক, উপপত্র ভল্লাকার। এক থেকে আড়াই মিলিমিটার লম্বা। আগা চোখা, অর্ধ-অখণ্ড, ঝিল্লিময় ও আশুপাতি।
এর বৃন্ত দুই থেকে আট মিলিমিটার লম্বা, সরু পক্ষল। পত্রফলক উপবৃত্তাকার, দীর্ঘায়ত। পুষ্প কাক্ষিক, শীর্ষ মঞ্জরির গুচ্ছে সন্নিবিষ্ট, হলুদাভ, সুগন্ধি। পুরুষ ফুলের বৃন্ত সরু, তিন থেকে ছয় মিলিমিটার লম্বা। স্ত্রী ফুলের বৃন্ত দেড় থেকে ১২ মিলিমিটার লম্বা। পরাগায়নের কাজটি করে বিভিন্ন পোকা ও মৌমাছি। ফল স্বাদে মিষ্টি, অর্ধগোলাকার মসৃণ সবুজ বা সাদা। ফুল ও ফলের মৌসুম এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর।
এরা মিশ্র চিরসবুজ বনের গুল্ম। প্রিয় আবাস পাহাড়, জলার ধার ও নদীপাড়। সাধারণত বেড়া বানানোর কাজে লাগে। পাতা প্রজাপতির প্রিয়। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত। বাংলাদেশের সিলেট, চট্টগ্রাম ও বাগেরহাটে জন্মে। গাছের শিকড়, বাকল ও পাতা সিফিলিস, গনোরিয়া, চর্মরোগ ও কৃমি সমস্যায় ব্যবহার করা হয়। পাতা ও বাকলের নির্যাস শক্তিবর্ধনে উপকারী। কাঠ খুঁটি, লাঠি ও কয়লা তৈরিতে ব্যবহার্য।
কম্বোডিয়ায় এ গাছের বাকল দিয়ে মাছ অচেতন করা হয়। কিন্তু সুনামগঞ্জের স্থানীয় মানুষ সাধারণত এই ফল খায় না। এমনকি ফলের ভালো-মন্দ নিয়েও তাদের আগ্রহ নেই।তবে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ এ ফল খায়। সেখানে ফলটি পাখ-পাখালিরও প্রিয়। এ ফল আমাদের দেশে ততটা দেখা যায় না।
Comments
Post a Comment