Skip to main content

স্পাইডার লিলি




স্পাইডার লিলি
বৈজ্ঞানিক নাম: Hymenocallis littoralis
পরিচিতি:
সাদা রঙের সুগন্ধী ফুল স্পাইডার লিলি। নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে, মাকড়সার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। আসলে ফুলটা দেখতে অনেকটা মাকড়সার জালের মতো বলে তার এমন নাম স্পাইডার লিলি।স্পাইডার লিলি ঝোপের মতো হয়। ফুলগুলো একটি বৃন্ত থেকে মাকড়সার জালের মতো চারপাশে পাপড়ি ছড়ায়। পাতাগুলো লম্বা। এর মূল দেখতে অনেকটা শালগমের মতো হয়। মন মাতানো মিষ্টি সুঘ্রাণ স্পাইডার লিলির। টবে লাগিয়ে দিলে স্পাইডার লিলির ঝোপ হতে খুব বেশিদিন সময় লাগে না।

শিবপুরের বোটানিক্যাল গার্ডেনে স্পাইডার লিলি।
কি সুন্দর, কি স্নিগ্ধ!
বর্ষার টলটলে জল দীঘির কূল ছাপিয়ে ডাঙ্গায় উঠে এসেছে। পাড়ের তাল, কদম, হেলিকনিয়া, ক্যানা, লিলি সবাই এখন দাঁড়িয়ে আছে এক হাঁটু জলে। স্পাইডারও আছে।
আর আছে শত শত ভৃঙ্গরাজ, ডাকাতে ফুল, সুষনী, হিংচে, আমরুল। কিছু তার ডুবে গেছে জলের নীচে, কিছু আছে জলের কোল ঘেঁষে। কি জানি ওদের সবার কষ্ট হচ্ছে কিনা।
কূলের জলছোঁয়া উদ্ভিদের পাতায় পাতায় উড়ে বেড়াচ্ছে কত রকমের ফড়িং, কি সুন্দর তাদের রঙের বাহার। একটি আছে একদম ফিনফিনে, একটি জেব্রার মতো, একটি টুকটুকে লাল।
জল মাকড়সার দেহের ভার নেই, পায়ে তাদের হওয়া ভরা বেলুন লাগানো, কি দুরন্ত গতিতে তারা ভেসে বেড়াচ্ছে, কখনো কূলের কাছাকাছি, কখনো কোন সুদূরে। ওরা খেলা করছে।
জলের ত্বক যেন একটি মিহি পর্দা, মাকড়সার পায়ের নিচে টান পড়ে সেই পর্দা যেন একটুখানি আনত। সেই ছোট্ট খাতটিতে আলো পড়ে ঝিকমিক করে উঠছে।
পুকুরে অনেক মাছ। বড়রা জলের নীচে নীচে নিঃশব্দে ছায়ার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। আমি তাদের দেখতে পাই। ছোট মাছগুলির এখন খেলার সময়। কালো জলের নীচে রূপার পাত ঝলসে উঠছে মাঝে মাঝে। কি অপূর্ব তার শোভা।
স্পাইডার লিলির পাপড়িগুলি হাঁসের পায়ের মতো, রেশমী পর্দায় জোড়া। বললাম, তোমাদের বুকে ওই যে গহ্বর, কই সেখানে তো জল জমে নি। কোথায় ফেললে বৃষ্টির জলটুকু?
ওরা হাসলো কিনা জানিনা। ফানেলের নিচে মনে হল ছিদ্র আছে, সছিদ্র ফানেল। সেখানেই আছে নিকাশি পথ।
গাছগুলির নিবিড় ছায়া পড়ে দীঘির জল আরো কালো, আরো অতল দেখাচ্ছে। এসব ছেড়ে আমি আর সরতে পারিনা। মনে হয় এখানেই বসে থাকি আরো দুদণ্ড।
আহা, কি অপরূপ!
(এই স্পাইডার লিলির বৈজ্ঞানিক নাম Hymenocallis littoralis. হাইমেন হলো সূক্ষ পর্দা। অনেকে একে ভুঁইচাঁপা বলে ভুল করেন। ভুঁইচাঁপা আসলে সম্পূর্ণ অন্য ফুল। তাতে বেগুনী, হলুদ ইত্যাদি রং মিশে থাকে, অত্যন্ত সুগন্ধী ফুল। বেল, জুঁই, গন্ধরাজের গন্ধ নিয়ে যেমন ধন্দ আছে কে বেশি মিষ্টি, তেমনি ধন্দ দোলনচাঁপা আর ভুঁইচাঁপা নিয়েও, কে বেশি মিষ্টি। ভুঁইচাঁপা ছোট গাছ, মাটির কাছেই ফুল ফোটে, বর্ষার সন্ধ্যায় সে সুগন্ধ উপচে দেয়।)

Comments

Popular posts from this blog

বরুণ ফুল

  বরুণ ফুল 

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)

  রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)