Skip to main content

মাধবী





মাধবী 
বৈজ্ঞানিক নাম: Hiptage benghalensis
পরিচিতি:
মাধবী বৃক্ষারোহী লতা এবং দীর্ঘজীবী। ফুল গুচ্ছবদ্ধ ও বিন্যাস সুসংবদ্ধ। মুকুলগুলো সূক্ষ্ম রোমে ভরা। ফুল সাদা রঙের, পাঁচটি পাপড়ি এবং তার মধ্যে পঞ্চম পাপড়িটির গোড়ার দিক হলদেটে। ফুল দেখতে তিল ফুলের মতো এবং খুব সুগন্ধি। বসন্ত ও গ্রীষ্ম এই ফুলের ঋতু হলেও কখনো কখনো বর্ষা পর্যন্ত ফোটে। ফুল থেকে ফল হয়, বীজ থাকে ২/৩টি এবং তা রোমশ।

মাধবীলতা
অন্যান্য নাম : মাধবীলতা, মাধবী, মাধবিকা, মণ্ডপ, কামী, পুষ্পেন্দ্র, অভীষ্টগন্ধক, অতিমুক্ত, বিমুক্ত, কামুক, ভ্রমরোৎসব, বসন্তদ্যুতি
ইংরেজি নাম : Clustered hiptage, Helicopter Flower, Hiptage
বৈজ্ঞানিক নাম : Hiptage benghalensis
“বসন্তের জয়রবে
দিগন্ত কাঁপিল যবে
মাধবী করিল তার সজ্জা”
কত কত তার নাম। কিন্তু কোনো একটি নামেই যেন তার রূপ-গুণ সম্পূর্ণ প্রকাশ পায় না। সুন্দরীতমা চিরযুবতী মাধবীলতা রূপ-গুণ-সৌরভ অনন্যা। মাধবীলতা একটি দেশি ফুল। আদি নিবাস আমাদের এই ভারত বিশেষ করে এই বাংলা। মজার কথা আদি নিবাস এই বাংলাতে মাধবীলতা যখন আজ প্রায় দুষ্প্রাপ্য তখন অস্ট্রেলিয়া, হাওয়াই, মরিশাসে এটি আগাছা রূপে চিহ্নিত। পাতায় আচ্ছাদিত লতা দেখতে খুবই সুন্দর বলে প্রাচীনকালে এটি দিয়ে মণ্ডপ, কুঞ্জ ইত্যাদি তৈরির প্রচলন ছিল।
মাধবী বৃক্ষারোহী, দীর্ঘজীবী লতা। ছোট ছোট ডালপালা যুক্ত ঝোপালো। প্রায় ১৫-২০ ফুট অনায়াসে বেয়ে উঠতে পারে। মাধবীর পুরনো গুঁড়ি শক্ত ও মোটা। ডগা কেটে রাখলে ঝোপের মতো হয়ে যায় তবে তাতে ফুল কম হয়। লতা যত বিস্তৃত হয়, তাতে ততই নতুন নতুন ডালপালা গজায় এবং বেশি বেশি ফুল ফোটে। গাছের বাকল মেটে রঙের, ভেতরের কাঠ লালচে এবং শক্ত।
এর পাতা বিপরীতমুখী, সাধারণত ৭-১২ সেমি লম্বা এবং ২.৫-৫ সেমি চওড়া, আয়তাকার, বোঁটার দিকে এবং অগ্রভাগ ক্রমে সরু, বল্লমাকার, দেখতে অনেকটা স্বর্ণচাঁপার পাতার মতো।
মাধবীলতা বসন্ত দিনের ফুল হলেও, গ্রীষ্মের শুরুতেও গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। কখনো বর্ষাকাল পর্যন্ত ফুল থাকে। পাতার কক্ষে এবং শাখার অগ্রভাগে মঞ্জরিতে প্রায় ১০-৩০টি ফুল ফোটে। ফুল উভলিঙ্গ, গুচ্ছবদ্ধ ও বিন্যাস সুসংবদ্ধ। মুকুলগুলো সূক্ষ্ম রোমে ভরা। ফুল সাদা থেকে হালকা গোলাপি রঙের। ফুলে মোট ৫ টি পাঁপড়ি থাকে। পাঁপড়ি গুলি ১.৫-২ সেমি লম্বা ও ১.২-১.৫ সেমি চওড়া। চারটি পাপড়ি এক রকম সমান হলেও পঞ্চম পাপড়িটি একটু ছোট আকৃতির এবং তার গোড়ার দিকে হলুদ রঙা টিপ। ফুল দেখতে তিল ফুলের মতো এবং খুব সুগন্ধি। পাপড়ির কিনারা চিরুনির মতো কাঁটা এবং পুংকেশরগুলোর মধ্যে একটি থাকে দীর্ঘ। পুংকেশর ১০টি, অসমান, সরু, ০.৮-১.৫ সেমি লম্বা। পুংকেশরগুলির একটি সবচেয়ে লম্বা ও বাঁকা।
ফল রোমশ, ৩টি পক্ষযুক্ত। গ্রিক শব্দ হিপটামি থেকে হিপটেজ কথাটি এসেছে, যার অর্থ উড়ন্ত। মাধবীলতার তিন পাখনাওয়ালা ফলের জন্য তার এমন নামকরন। ফলের অমন গড়নের জন্য কেউ কেউ একে হেলিকপ্টার ফুল ও মদনমাস্তা নামেও ডেকে থাকেন। প্রতিটি ফলে ২-৩টি গোলাকার বীজ থাকে। বীজ থেকে সহজেই গাছ জন্মায়। এ ছাড়া শাখা কলম বা দাবা কলমের দ্বারাও এর বংশবিস্তার করা যায়।
মাধবীলতার বহুবিধ ভেষজ গুণও রয়েছে। পাতা চর্মরোগে ব্যবহৃত হয়। পাতার রস খোস-পাঁচড়া ও কুষ্ঠ রোগের ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পাতা পুরনো বাত ও হাঁপানীর জন্য উপকারি।
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
Kingdom - Plantae
Subkingdom - Tracheobionta
Superdivision - Spermatophyta
Division - Magnoliophyta
Class - Magnoliopsida
Subclass - Rosidae
Order - Polygalales
Family - Malpighiaceae
Genus - Hiptage
Species - Hiptage benghalensis
#মাধবীলতা#মাধবী#Clustered_hiptage#Helicopter_Flower#Hiptage#Hiptage_benghalensis

যাদের সাথে এর নামটি আমরা গোলমাল করে ফেলি সেগুলি হল - মাধবীলতা, মালতীলতা ও মধুমঞ্জরি/মধুমালতী। এরা প্রত্যেকেই আলাদা প্রজাতি — আলাদা গোত্র।
মাধবীলতা (Hiptage benghalensis): Family: Malpighiaceae
মালতিলতা (Aganosma dichotoma), Family: Apocynaceae
মধুমঞ্জরী/মধুমালতী (Quisqualis indica), Family: Combretaceae

Comments

Popular posts from this blog

কুঞ্জলতা

|| কুঞ্জলতা || অন্যান্য নাম : কুঞ্জলতা, কামলতা, তারালতা, তরুলতা, গেইট লতা, সূর্যকান্তি, জয়ন্তী ফুল। ইংরেজি নাম : Cypress Vine, Cypressvine Morning Glory, Cardinal Creeper, Cardinal Climber, Cardinal Vine, Star Glory, Hummingbird Vine, Cupid's flower বৈজ্ঞানিক নাম : Ipomoea quamoclit কুঞ্জলতা একপ্রকার বর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা হলেও এটি দুনিয়ার প্রায় সকল ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আমাদের দেশেও ব্যাপক ভাবে এর দেখা মেলে। কুঞ্জলতা সাধারণত ১-৩ মিটার লম্বা হয়। কান্ড নরম সবুজ, সহজেই ভেঙে যায় তবে পরিনত হলে বাদামি রঙের ও তুলনায় পোক্ত হয়ে থাকে। এর কান্ড বল্লী ধরনের অর্থাৎ এদের কোন আকর্ষ থাকে না তাই কান্ডের সাহায্যে কোন অবলম্বন কে জড়িয়ে ওপরে ওঠে। কুঞ্জলতার পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। পাতা সরল, একান্তর ভাবে সজ্জিত। পাতাগুলি ৫ – ৭.৫ সেমি লম্বা। পত্রকিনারা পালকের মতো গভীরভাবে খন্ডিত, পাতার প্রত্যেক পাশে ৯-১৯টি করে খন্ড থাকে। এরূপ খন্ডনের কারনে পাতাগুলিকে দেখতে লাগে অনেকটা ফার্ণের মত। ঘনভাবে লতানো কুঞ্জলতার পাতাও ...

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

অলকানন্দা

অলকানন্দা বৈজ্ঞানিক নাম: Allamanda cathartica পরিচিতি: কান্ড গোল, সরু সরু ডাল, চিরসবুজ, তেমন পত্রঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১*৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। বড় বড় হলুদ রঙের ফুল, গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। অলকানন্দা বাংলা নাম : অলকানন্দা, স্বর্ণঘন্টা, ঘন্টালতা ইংরেজি নাম : Golden Trumpet, Yellow Bell, Common Trumpetvine, Yellow Allamanda বৈজ্ঞানিক নাম : Allamanda cathartica অলকানন্দা (রবি ঠাকুরের দেয়া নাম) একটি গুল্মজাতীয় গাছ। ব্রাজিল ও মধ্য আমেরিকার প্রজাতি। কান্ড গোল, সরু ডাল, চিরসবুজ, পাতা তেমন ঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১.৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ, বিন্যাস আবর্ত। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। ডালের আগায় বড় বড় হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে খুবই সুন্দর, ফুল গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে এটি সবচেয়ে ভালভাবে ফোটে। জল জমে থাকেনা এমন মাটিতে এটি ভাল জন্মে। এটি অনেকটা লতা জাতীয় গাছ, তাই বেড়া বা লাঠিতে ভর দিয়ে এটি বেড...