Skip to main content

হিজল




হিজল
সংস্কৃত নাম নিচুল। এ ছাড়া জলন্ত, নদীক্রান্ত এসব নামেও হিজলগাছ পরিচিত।
বৈজ্ঞানিক নাম:Barringtonia acutangula
পরিচিতি:
আকারহিজল মাঝারি ধরনের। ডালপালার বিস্তার চারদিকে। সাধারণত জলজ কাদা, পানিতে এই গাছ জন্মে। বীজ থেকে গাছ হয়। উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ মিটার।
ফুলহিজল ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। হালকা গোলাপি রঙের ১০-১২ সেমি লম্বা পুষ্পদণ্ডের মাঝে অসংখ্য ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। গভীর রাতে ফুল ফোটে, সকালে ঝরে যায়। ফুলে একধরনের মিষ্টি মাদকতাময় গন্ধ আছে।
ব্যবহারহিজলগাছের প্রাণশক্তি প্রবল। বন্যার পানি কিংবা তীব্র খরাতেও টিকে থাকে। এমনকি পানির নিচে কয়েক মাস নিমজ্জিত থাকলেও হিজলগাছ বেঁচে থাকে। তাই হাওর অঞ্চলে এ গাছের ডাল মাছের অভয়রাণ্য তৈরিতে ব্যবহূত হয়।
আদি নিবাসহিজল গাছের আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া


|| হিজল ||
বাংলা নাম : হিজল, নদীক্রান্ত, জলন্ত, কার্ম্মক এবং দীর্ঘপত্রক
ইংরেজি নাম : Barrigntonia, Freshwater Mangrove plant, Samundarphal, Indian Oak, Indian Putat.

বৈজ্ঞানিক নামঃ Barringtonia acutangula
ঐতিহ্যবাহী গাছের মধ্যে হিজল গাছ একটি। এ গাছটি আমাদের প্রকৃতি থেকে দিন দিন হারিয়েই যাচ্ছে। আদি নিবাস দক্ষিণ এশিয়া, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া। হিজল মাঝারি আকারের দীর্ঘজীবী চিরহরিৎ গাছ। হিজল গাছ পুকুর, খাল, নদী-নালা ও জলাশয়ের ধারে বেশি জন্মায়। বাকল ঘনছাই রঙের, অমসৃন ও পুরু। ডালপালার বিস্তার চারদিকে। উচ্চতা ১০ থেকে ১৫ মিটার। পাতা বড় ডিম্বাকার, ৫ – ১৫ সেমি লম্বা, উপপত্রযুক্ত, চামড়ার মতো মসৃণ।
হিজল ফুল দেখতে খুবই সুন্দর। গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে হিজল গাছে ফুল ফুটতে শুরু করে।
সংস্কৃত ভাষায় হিজলকে বলে নিচুল, হিজল ফুল ফোটে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে। ১০-১২ সেমি লম্বা পুষ্পদণ্ডের মাঝে অসংখ্য ফুল ঝুলন্ত অবস্থায় ফোটে। গভীর রাতে ফুল ফোটে, সকালে ঝরে যায়। ফুল সাদা, গোলাপি বা লাল রঙের, ছোট, ৬ – ১০ মিমি লম্বা চার পাঁপড়ি বিশিষ্ট। ফুলে একধরনের মিষ্টি মাদকতাময় গন্ধ আছে। ছোট আকৃতির রক্ত রাঙ্গা হিজল ফুল গাছের নিচে ঝরে পড়ে সৃষ্টি করে এক দৃষ্টি নন্দন পুষ্প শয্যা। হিজল ফুলের গন্ধে মাতাল কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাই লিখেছেন,
“পিছল পথে কুড়িয়ে পেলাম হিজল ফুলের মালা।
কি করি এ মালা নিয়ে বল চিকন কালা...”
হিজল ফুল শেষ হলে গাছে ফল আসে। ফল তিতা, ৩-৪ সেমি লম্বা, চার শিরযুক্ত, দেখতে অনেকটা হরীতকীর মতো। ফলের ভিতর একটি করে কালো রঙের বীজ থাকে। ফল মারাত্মক বমনকারক।
হিজলগাছের প্রাণশক্তি প্রবল। বন্যার জল কিংবা তীব্র খরাতেও টিকে থাকে। এমনকি জলের নিচে কয়েক মাস নিমজ্জিত থাকলেও হিজলগাছ বেঁচে থাকে। হিজলের কাঠ নরম, সাদা বর্ণের উজ্জ্বল মসৃণ ও টেকসই । জলে নষ্ট হয় না বলে নৌযান তৈরিতে ব্যবহ্রত হয় । সস্তা আসবার তৈরিতেও ব্যবহার করা যায়। এর বাকল থেকে ট্যানিন পাওয়া যায় । এ ছাড়া উদ্ভিটির ঔষধী গুরুত্ব রয়েছে । হিজলের বাকল ও ফল বিরেচক এবং ডায়রিয়া ও নাকের ক্ষতে উপকারী। বীজ শিশুদের ঠান্ডা লাগায় ব্যবহার করা যায়।
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
Kingdom: Plantae
Division: Magnoliophyta
Class: Magnoliopsida
Order: Ericales
Family: Lecythidaceae
Genus: Barringtonia
Species: Barringtonia acutangula

Comments

Popular posts from this blog

বরুণ ফুল

  বরুণ ফুল 

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)

  রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)