Skip to main content

Amaltas, অমলতাস, Golden Shower (Cassia fistula)

Image result for golden shower tree
Amaltas, অমলতাস, Golden Shower (Cassia fistula)

অমলতাস
বাংলা নাম : অমলতাস, সোনালু, সোনাইল, সোঁদাল, বাঁদরলাঠি, অলানু, কর্ণিকা।
ইংরেজি নাম : Golden shower , purging cassia, Indian laburnum
বৈজ্ঞানিক নাম : Cassia fistula
গ্রীষ্মের খরতাপে প্রকৃতিতে প্রাণের সজীবতা নিয়ে যেসব ফুল ফোটে তার মধ্যে অমলতাস বা সোনালু-র নাম উল্লেখযোগ্য। পুরোটা বসন্ত জুড়ে প্রস্তুতি নিয়ে সোনালুর ঘুম ভাঙে বৈশাখের শুরুতে। পুষ্পিত অমলতাস তখন কাঁচা সোনা রঙের সৌন্দর্য মাতোয়ারা করে রাখে চারপাশ।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই ফুল বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড এসব দেশে মেলে। এটি থাইল্যান্ডের জাতীয় ফুল এবং কেরালা-র রাজ্য পুষ্প। থাইল্যান্ডে একে Ratchaphruek বা Dok Khuen বলে। অনেকে Thais ও বলে থাকে।
রোদ এবং যে মাটিতে জল জমে থাকে না সেখানে ভাল জন্মে। মাঝারি আকারের এই বৃক্ষটি প্রায় ১০-১৫ মি. পর্যন্ত উচু হতে দেখা যায়। ডালপালা ছড়ানো-ছিটানো, নিবিড় নয়। ফাল্গুন চৈত্রে এর পাতা ঝরে যায় এবং বৈশাখে নতুন কচি কলা পাতা রংয়ের পাতা গজায়, তার পরই গাছ পূষ্পিত হতে শুরু করে। ১৫-২০ সেমি. লম্বা গাঢ় সবুজ রঙের পাতাগুলো যৌগিক, মসৃণ ও ডিম্বাকৃতির।
গ্রীষ্মের শুরুতে দু-একটি কচি পাতার সঙ্গে ফুল ফুটতে শুরু করে। হলুদ সোনালি রঙের অসংখ্য ফুল সারা গাছে ঝাড় লণ্ঠনের মতো ঝুলতে থাকে। দীর্ঘ ৪০ সেমি. পর্যন্ত লম্বা মঞ্জরিদণ্ডে ঝুলে থাকা ফুলগুলো দৈর্ঘ্যে ২ থেকে ৪ সেমি.এবং ৪-৭ সে.মি. ব্যাসের হয়, পাপড়ির সংখ্যা পাঁচ। এর উন্মুক্ত একাধিক পরাগদন্ড এবং পরাগধানী নজর কাড়ে। সবুজ রঙের একমাত্র গর্ভকেশরটি কাস্তের মতো বাঁকানো।
ফল গোল, লাঠির মতো লম্বা। তাছাড়া ফল-ফুল ও পাতা বানরের প্রিয় খাবার। এ কারণে অমলতাস কোথাও কোথাও বাঁদরলাঠি নামেও পরিচিত। ফল হাল্কা মিষ্টি। ফল পাকতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। পেকে গেলে নিজ থেকে ফল মাটিতে পড়ে বীজ ছড়িয়ে বংশ বিস্তার ঘটায়। কলমের মাধ্যমে বংশ বিস্তার ঘটানো যায় না। বীজ সহজেই অঙ্কুরিত হয়, যদিও বৃদ্ধি মন্থর।
আয়ুর্বেদিক ঔষধে অমলতাসকে রোগ নাশক বলে থাকে। এর বীজ বিষাক্ত। ফলের বিভিন্ন অংশ বাত, বমি ও রক্তস্রাব প্রতিরোধে উপকারী। ফলের শাঁস রেচক ঔষধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া জ্বর, আর্থারাইটিস, স্নায়ুর বিভিন্ন রোগে, রক্তমোক্ষন রোগ এবং পাকস্থলির সমস্যা কোষ্ঠবদ্ধতা ও অগ্নিমান্দ্য প্রভৃতি রোগের ঔষধ তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। বাকল রঙ ও ট্যানিংয়ের কাজে ব্যবহার হয়। এ গাছের কাঠ জ্বালানি ছাড়াও অন্যান্য কাজে লাগে।
বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাস
Kingdom Plantae
Subkingdom Viridiplantae
Infrakingdom Streptophyta
Superdivision Embryophyta
Division Tracheophyta
Subdivision Spermatophytina
Class Magnoliopsida
Superorder Rosanae
Order Fabales
Family Fabaceae
Genus Cassia
Species Cassia fistula

Comments

Popular posts from this blog

কুঞ্জলতা

|| কুঞ্জলতা || অন্যান্য নাম : কুঞ্জলতা, কামলতা, তারালতা, তরুলতা, গেইট লতা, সূর্যকান্তি, জয়ন্তী ফুল। ইংরেজি নাম : Cypress Vine, Cypressvine Morning Glory, Cardinal Creeper, Cardinal Climber, Cardinal Vine, Star Glory, Hummingbird Vine, Cupid's flower বৈজ্ঞানিক নাম : Ipomoea quamoclit কুঞ্জলতা একপ্রকার বর্ষজীবী লতা জাতীয় উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস ক্রান্তীয় আমেরিকা হলেও এটি দুনিয়ার প্রায় সকল ক্রান্তীয় অঞ্চলে পাওয়া যায়। অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং আমাদের দেশেও ব্যাপক ভাবে এর দেখা মেলে। কুঞ্জলতা সাধারণত ১-৩ মিটার লম্বা হয়। কান্ড নরম সবুজ, সহজেই ভেঙে যায় তবে পরিনত হলে বাদামি রঙের ও তুলনায় পোক্ত হয়ে থাকে। এর কান্ড বল্লী ধরনের অর্থাৎ এদের কোন আকর্ষ থাকে না তাই কান্ডের সাহায্যে কোন অবলম্বন কে জড়িয়ে ওপরে ওঠে। কুঞ্জলতার পাতা গাঢ় সবুজ রঙের। পাতা সরল, একান্তর ভাবে সজ্জিত। পাতাগুলি ৫ – ৭.৫ সেমি লম্বা। পত্রকিনারা পালকের মতো গভীরভাবে খন্ডিত, পাতার প্রত্যেক পাশে ৯-১৯টি করে খন্ড থাকে। এরূপ খন্ডনের কারনে পাতাগুলিকে দেখতে লাগে অনেকটা ফার্ণের মত। ঘনভাবে লতানো কুঞ্জলতার পাতাও ...

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

অলকানন্দা

অলকানন্দা বৈজ্ঞানিক নাম: Allamanda cathartica পরিচিতি: কান্ড গোল, সরু সরু ডাল, চিরসবুজ, তেমন পত্রঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১*৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। বড় বড় হলুদ রঙের ফুল, গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। অলকানন্দা বাংলা নাম : অলকানন্দা, স্বর্ণঘন্টা, ঘন্টালতা ইংরেজি নাম : Golden Trumpet, Yellow Bell, Common Trumpetvine, Yellow Allamanda বৈজ্ঞানিক নাম : Allamanda cathartica অলকানন্দা (রবি ঠাকুরের দেয়া নাম) একটি গুল্মজাতীয় গাছ। ব্রাজিল ও মধ্য আমেরিকার প্রজাতি। কান্ড গোল, সরু ডাল, চিরসবুজ, পাতা তেমন ঘন নয়। পর্বসন্ধিতে ৪টি পাতা, লম্বাটে, ৭-১১.৩-৫ সেমি, পাতার নিচের মধ্যশিরা রোমশ, বিন্যাস আবর্ত। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় অনেকদিন ফুল ফোটে। ডালের আগায় বড় বড় হলুদ রঙের ফুলটি দেখতে খুবই সুন্দর, ফুল গন্ধহীন, দলনলের ছড়ান, প্রায় ৬ সেমি চওড়া, মুখ গোলাকার, ৫ লতি। রৌদ্রকরোজ্জ্বল দিনে এটি সবচেয়ে ভালভাবে ফোটে। জল জমে থাকেনা এমন মাটিতে এটি ভাল জন্মে। এটি অনেকটা লতা জাতীয় গাছ, তাই বেড়া বা লাঠিতে ভর দিয়ে এটি বেড...