Skip to main content

রাজ অশোক / উর্বশী


ফুলের নাম- রাজ অশোক

বৈজ্ঞানিক নাম- Amherstia nobilis
পরিবার- Fabaceae
এই ফুলের আদি বাড়ি মিয়ানমার। “রাজ অশোক” বলধা বাগানের সাবেক পরিচর্যাকারী অমৃতলাল আচার্যের দেওয়া নাম। রাজ অশোকের আরেক নাম 'উর্বশী'। রাজ অশোক উদ্ভিদ জগতের অন্যতম সুন্দর বৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত। যেমন দেখতে এর ফুল, তেমন সুন্দর গাছ। লর্ড আর্মহাস্ট ও তার পরিবারের ভারতীয় উদ্ভিদের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ছিল। তার নামানুসারেই রাজ অশোকের নামকরণ 'আর্মহাস্টিয়া নোবিলিস'। মিয়ানমারের গর্ব রাজ অশোক 'ট্রি অব হ্যাভেন' নামেও পরিচিত।
মাঝারি উচ্চতার চিরহরিৎ বৃক্ষ। পাতা পক্ষল, যৌগপত্র। অনেকটা অশোকের পাতার মতো ঝুলে থাকে। সে জন্য অনেকেই রাজ অশোককে অশোক বলে ভুল করে থাকেন। কচি পাতা খুব সুন্দর, তামাটে রঙা। পাতার কোল থেকে বড় বড় পুষ্পমঞ্জরি বের হয়। মঞ্জরিতে সিঁদুর লাল ফুল অসাধারণ। রাজ অশোকের লাল রঙের ফুল চমৎকার দর্শনীয় ভঙ্গিমায় গাছে ঝুলে থাকে। দেখে মনে হয় যেন পাখা মেলে বসে আছে লালরঙা চমৎকার কিছু পাখি। ফুল অর্কিডের মতো প্রশাখাময়। সে জন্য এর প্রচলিত নাম 'অর্কিড ট্রি'। লাল পাপড়ির মাঝখানে সোনালি হলুদের টিপ রাজ অশোককে করে তুলেছে আরও মোহনীয়। আবার সেই হলুদ টিপের মাঝখানে ইংরেজি 'ভি' অক্ষরটি যেন তার শ্রেয়ত্বের কথা জানান দিচ্ছে।
রাজ অশোক আমাদের দেশে খুব বেশি প্রচলিত ফুল নয়। নড়াইলে কিছু রাজ অশোকগাছ আছে। মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে আছে। আরবরি কালচার ও রাজাবাজারের এক বাড়িতে রাজ অশোকের দেখা পাবেন। দেখা পাবেন পুরান ঢাকার বলধা গার্ডেনে। এখানে সিবিলি ও সাইকির দুই অর্ধে পাঁচটি গাছ। সাইকি ভাগের গাছটি শেষ মাথায় জলপাই গাছের পাশে। সিবিলি ভাগে প্রবেশদ্বারের ডান-বামে দুটি এবং অন্য দুটি গাছ শেষ মাথায় দাঁড়িয়ে যেন আপনাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে ফুল আসে।
মূল লেখা- ফারুখ আহমেদ
ছবি- নেট

Comments

Popular posts from this blog

বরুণ ফুল

  বরুণ ফুল 

Jhumko Lata, ঝুমকো লতা, Passion flower (Passiflora caerulea)

Jhumko Lata , ঝুমকো লতা, Passion flower ( Passiflora caerulea ) জংলি ঝুমকো ইংরেজি নাম: Wild Passion Flower বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora foetida পরিচিতি: এটি আরোহী লতা। আকর্ষীর মাধ্যমে কোনো ধারককে আঁকড়ে ধরে বেয়ে ওঠে। ফুল সুগন্ধি নয়, তবে দেখতে আকর্ষণীয়। পাতা একান্তর, দুটি খাঁজ রয়েছে। ফুল বেগুনি ও সাদা রঙের। বৃতি পাঁচটি, দল পাঁচটি এবং বৃতি নল থেকে কিছুটা খাটো। ফল পাকলে কমলা লাল বর্ণের হয়।এর পাকা ফল খাওয়া যায়। স্বাদে মিষ্টি ও রসাল। কিন্তু কাঁচা ফল বিষাক্ত ও ভক্ষণে মানা। বাংলাদেশ ছাড়া মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, চীন, মাদাগাস্কার ও উত্তর অস্ট্রেলিয়ায় এ লতার বিস্তৃতি রয়েছে। বীজ দ্বারা বংশবৃদ্ধি ঘটে। প্যাশন ফ্লাওয়ার / ঝুমকোলতা বৈজ্ঞানিক নাম: Passiflora Incarnata পরিচিতি: এটি একটি লতা জাতীয় উদ্ভিদ। প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এ গাছেরপাতা দেখতে হাতের তালুর মতো। পাতায় তিনটি খাঁজ আছে এবং প্রতিটি অংশ দেখতে আঙ্গুল সদৃশ। পাতার অগ্রভাগ সুচালো। পাতার কক্ষ থেকে লতা বের হয়। ফুল একক, সুগন্ধযুক্ত। বাতাসে একটা মৌতাতানো সুবাসিত গন্ধ ছড়ায়। হালকা বেগুনি রঙের পাপড়ি বাইরের দিকে সজ্জিত থাকে। এ গাছের ...

রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)

  রামধন চাঁপা (Ochna obtusa/squarrosa)